চট্টগ্রামের মুরাদপুর–অক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকেই সড়ক অবরোধ করেন এক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই সড়কটি বন্ধ করে দেয়ায় মুরাদপুর হতে হাটহাজারী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও রাউজানগামী যাত্রীরা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
ঘটনার শুরু ও পটভূমি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে আতুরার ডিপো এলাকায় ওই কারখানার মালিকানা পরিবর্তন হয়। মালিকানা বদলের পরে বকেয়া বেতন নিয়ে নতুন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ বা বকেয়ার টাকা দেয়ার আশ্বাস দিলেও চাহিদা মেটেনি। সম্প্রতি শ্রমিকরা চার দিনের বেতন-ভাতার দাবি করলেও মালিকপক্ষ টাকা দিতে অনিচ্ছুক ছিল বলে তারা জানান। অনিশ্চয়তার মধ্যে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন শুরু করলে বিক্ষোভটি সড়ক অবরোধে রূপ নেয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের কণ্ঠে
শিল্প পুলিশ চট্টগ্রামের সুপার মাহমুদা বেগম ঘটনার সময় প্রথম আলোর সাথে কথা বলে বলেন, শ্রমিকেরা সকালের দিকে প্রথমে কর্মবিরতি পালন করে এবং পরে সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ শুরু করে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে শিল্প ও থানা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং শ্রমিকদের বোঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
“দীর্ঘদিন ধরে দেনা পাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। এরই মধ্যে মালিকানা পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ চার দিনের বেতন–ভাতার টাকা নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকের দ্বন্দ্ব হয়।”
সড়ক অবরোধের প্রভাব
অবরোধের ফলে ওই রুটে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সরাসরি প্রভাব পড়েছে যাত্রীদের সময় ও শ্রমিক-দোকানদারদের ব্যবসায়। বিকল্প রুটে যানবাহন ঘুরে চলার কারণে ভ্রমণের সময় বাড়ছে এবং ভোগান্তি বেড়েছে। আশপাশের আরও কয়েকটি পোশাক কারখানারও কাজকর্ম এতে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে।
- অবস্থান: মুরাদপুর–অক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো
- সময়: সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সড়ক অবরোধ
- আড়াআড়ি: মালিকানা পরিবর্তনের পরে বকেয়া বেতন নিয়ে বিরোধ
সমাধানের প্রচেষ্টা ও পরবর্তী ধাপ
পুলিশ সূত্র জানায়, শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শিল্প বিভাগ ও থানা-পুলিশের উপস্থিতি থাকায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর্থিক দাবিসমূহ পর্যালোচনা করে দ্রুত তা মিটিয়ে দেয়া না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তবে এ বিষয়ে শ্রমিক পক্ষ থেকে দেয়া কোনও লিখিত ঘোষণা রিপোর্টে সামনে আসেনি।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| মালিকানা পরিবর্তন | ঘটিত |
| শ্রমিকদের দাবি | চার দিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ |
| পুলিশের অবস্থান | ঘটনাস্থলে উপস্থিত, নিশ্চিতকরণ ও বোঝানো চলছে |
কর্মীদের দফা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শ্রমিকদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে মিটছে না। বকেয়া পাওনা নিরসনে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বেশ কয়েকবার হলেও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। এতে গিয়ে কর্মীরা পথে নেমেছেন। আশপাশের বাসিন্দারা বলেন, অবরোধ দীর্ঘ হলে পরিবহন সেবা ব্যাহত হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে মানুষ সমস্যায় পড়বে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়েছেন যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং শ্রমিকদের বকেয়া নিশ্চিত করা যায়। প্রশাসনের কাছে দাবি, শ্রমিকদের মানবিক ও আইনি অধিকার রক্ষা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমি নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্ট করছি—ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মিলিয়ে পরবর্তী সংবাদে নতুন তথ্য জানানো হবে।