চট্টগ্রামে বন্দরের জট কমাতে দুই ধাপে ই-নিলাম
চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা পণ্যের এক বড় অংশ নিষ্পত্তি করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস আগামী সপ্তাহ থেকেই দুই ধাপে ই-নিলামের আয়োজন করতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগে মোট ৪৪২টি কনটেইনারজাতীয় ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের মোট আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন এবং বাজার মূল্য প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা.
কেন সম্পত্তি বন্দরে পড়ে থাকে?
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পণ্যের দাম কমে যাওয়া, মূল কাগজপত্র বা ছাড়পত্র না থাকা অথবা আমদানিতে অনিয়মের কারণে আরোপিত জরিমানা দিতে অনীহা থাকা—এই কারণে আমদানিকারকরা তাদের পণ্য বন্দরে রেখে দেন। ফলে বছরের পর বছর এসব কনটেইনার বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রাখে এবং বন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে; পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহেও ক্ষতি হয় এবং শিপিং এজেন্টদের আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়।
নিলামের পরিমাণ ও সময়সূচি
কাস্টমস দুইটি ই-নিলাম পরিচালনা করবে। নিলাম কার্যক্রম সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী:
- বিশেষ ই-নিলেশন নম্বর-১০/২০২৬ এ মোট ১০১টি লট রয়েছে, যার মধ্যে ২৯০টি কনটেইনার।
- ই-নিলেশন নম্বর-০৯/২০২৬ এ ১০৯টি লট, মোট ১৫২টি কনটেইনার নিলামে থাকবে।
- এছাড়া ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও নিলামের তালিকায় রয়েছে।
নিলামের জন্য কনটেইনার যাচাই ও প্রদর্শন করা হবে দর্শনার জন্য পূর্বঘোষিত সময়সীমায়। ই-নিলেশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শন করা যাবে ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; আর বিশেষ ই-নিলেশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য পরিদর্শনের জন্য খোলা থাকবে ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর। অনলাইন বিড শুরু করার আগে এই সরেজমিন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক নয়, তবে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য তা নিশ্চিত করার সুযোগ হিসেবে রাখা হয়েছে।
অংশগ্রহণ ও অনলাইন প্রক্রিয়া
নিলামের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে বলে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে। আগ্রহীরা কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টাল থেকে নিবন্ধন করতে পারবে। দরপত্র জমা ও সময়সূচি নিম্নরূপ:
| ই-অকশন নম্বর | দরপত্র দাখিল সময়সীমা | বাক্স খোলার তারিখ ও সময় |
|---|---|---|
| ০৯/২০২৬ | ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৩টা পর্যন্ত | ১৬ সেপ্টেম্বর, দুপুর সাড়ে ৩টা |
| ১০/২০২৬ (বিশেষ) | ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৩টা পর্যন্ত | ২০ সেপ্টেম্বর, বেলা ১১টা |
নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুক দরদাতাদের জন্য কাস্টমস একটি নির্দেশনা জারি করেছে: প্রস্তাবিত দরমূল্যের কমপক্ষে মোট দামের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে (নিয়মটি শুধুমাত্র কাস্টমসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগযোগ্য)।
প্রভাব ও প্রত্যাশা
কাস্টমস আশা করে যে এই নিলাম কার্যক্রম বন্দরের কনটেইনার জট কমাবে, বন্দরের জায়গা মুক্ত হবে এবং বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়বে। নিলামের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে এবং রাজস্ব উদ্ধারেও সহায়তা করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিপিং, কাস্টমস ও লজিস্টিকস খাতে কিছুটা রিলিফ উপস্থিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে।
নিলাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও অংশগ্রহণ নির্দেশনা জানতে আগ্রহীরা কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টাল পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টরা বলছেন, বন্দরের জমে থাকা পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি হলে ব্যবসায়িক লেনদেন দ্রুততর হবে এবং অবকাঠামোর ওপর চাপ কমবে—তবে নিলামের বাস্তব কার্যকরতা ও বাজারে বিক্রয় মূল্য বিচার্য বিষয় যা ভবিষ্যতে নিশ্চিত হবে।
চট্টগ্রাম থেকে: নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, WE NEWS