সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের মোট ১৫ প্রবাসী নিহত হওয়ার খবরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় শোক বইছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১০ জন নিশ্চিত।
প্রাথমিক তথ্য ও অঞ্চলে প্রতিক্রিয়া
আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষরা সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং রোববার ওই কারখানায় আগুন লাগার সময় তারা সেখানে ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত যোগাযোগ বজায় রেখে ঘটনাটি মনিটর করছেন।
এ ঘটনায় আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন এবং গ্রামের মানুষগুলোর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ইউএনও আশঙ্কা জানান যে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হতাহতদের পরিচয় (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী)
স্থানীয় ও প্রবাসী সূত্রে যে ব্যক্তিদের নাম পাওয়া গেছে, সেগুলি নিম্নরূপ:
- কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী: কলি, লুৎফর, জান্ডার ও রুবেল
- বিষা ইউনিয়ন: সাগর (সাধুনগর গ্রাম), মজিদুল (মাধবপুর গ্রাম)
- দুবাই গ্রাম: শুভ ও সুমন
- পাচু পুর ইউনিয়ন, পারকাসুন্দা গ্রাম: মো জালাল
- সাহাবুলা ইউনিয়ন, উদনপৈ গ্রাম: ফরিদ শেখ
| নাম (প্রাপ্ত) | গ্রাম/ইউনিয়ন |
|---|---|
| কলি | কালিকাপুর, গন্ডগোহালী |
| লুৎফর | কালিকাপুর, গন্ডগোহালী |
| জান্ডার | কালিকাপুর, গন্ডগোহালী |
| রুবেল | কালিকাপুর, গন্ডগোহালী |
| সাগর | বিষা, সাধুনগর |
| মজিদুল | বিষা, মাধবপুর |
| শুভ | দুবাই গ্রাম |
| সুমন | দুবাই গ্রাম |
| মো জালাল | পারকাসুন্দা, পাচু পুর |
| ফরিদ শেখ | উদনপৈ, সাহাবুলা |
ঘটনার বিবরণ ও সম্ভাব্য কারণ
প্রবাসী ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের খোরদাম শহরে অবস্থিত ওই সোফা কারখানায় কাজ চলাকালীন আচমকা আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত দাহ্য ফোম, কাপড় ও অন্যান্য উপকরণে ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানাটি ঘন কালো ধোঁয়া ও লেলিহান শিখায় ঢেকে যায়। সৌদি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে কারখানার ভিতর থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তারের পেছনে দাহ্য উপকরণ ও সম্ভবত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রভাবিত করেছে বলে প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের চাহিদা
নওগাঁ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জনগণ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের মরদেহ সনাক্ত ও দেশে পাঠানোসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অনেক পরিবার এখনও স্বজনের মর্যাদাপূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রবাসী সূত্র থেকে পাওয়া আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সহায়তা করা হবে এবং সরকারী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা হবে।
এই দুর্ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মস্থলে নিরাপত্তা মান ও প্রেরণার পথে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তাত্পর্য পুনরায় সামনে এনেছে। আত্রাই কমিউনিটির মানুষের কাছে সম্ভবত দীর্ঘদিন স্মরণীয় ও কষ্টদায়ক এই ক্ষতি দেশের অভিবাসী শ্রম সংক্রান্ত নীতিমালা ও সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে।
নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় নেতারা ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন; জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করে পরবর্তী কার্যক্রম জানাবে বলে জানা গেছে।