সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া মোট ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে নওগাঁ জেলায় জন্মভূমি রয়েছে ১৩ জনের—এর মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলা ও ১ জন নওগাঁ সদর উপজেলার। ঘটনার পর প্রবাসী ও তাদের পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সারমর্ম ও প্রথমিক তথ্য
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভিতরে থাকা শ্রমিকরা বাইরে বের হতে পারেননি। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা প্রথম দিকে ১৬ জন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে।
নওগাঁ ও নলডাঙ্গার নিহতদের পরিচয়
স্থানীয় প্রশাসন ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনের পরিচিত সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর হতাহত প্রবাসীদের নাম ও পৌরবৎ বর্ণনা নিম্নরূপ—
- আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮)
- খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪)
- খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল (৪৮)
- উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২)
- ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১)
- ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭)
- কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২)
- গন্ডগোহালি গ্রামের সুমন প্রামাণিক (১৬)
- গন্ডগোহালি গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০)
- গন্ডগোহালি গ্রামের কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫)
- বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২)
- মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০)
- নওগাঁ সদর উপজেলার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)
অপর দিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন প্রবাসীরও একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে—খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মো. সাব্বির হোসেন শুভ (৩০), দিঘীরপাড় এলাকার শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল আউয়াল হৃদয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনার বিবরণ
নিহতদের একটি অংশ সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই সোফা কারখানায় কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় কারখানার শ্রমিকরা অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কারখানার প্রধান ফটক বাইরের থেকে তালাবদ্ধ ছিল। এক আত্মীয়ের বিবরণ অনুযায়ী, দিনের বেলায় ঘুম ও রাতে কাজের কারণে শ্রমিকরা সেখানে ছিলেন এবং আগুন লাগার পর দ্রুত বের হতে না পারায় তারা কারাখানার ভিতরে আটকা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই নিহতদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। অনেক পরিবারের মানুষ এখনো নিশ্চিতভাবে মরদেহের পরিপূর্ণ পরিচয় পায়নি; তাদের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বড় মাপের। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারসমূহকে প্রাথমিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে কথাও জানিয়েছে।
সরকারি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, প্রত্যেক মৃতের পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও মরদেহ লেজার (ফরেনসিক) প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রসেসিং ও পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ মুহূর্তে করণীয় ও স্থানীয় দরকার
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের মানসিক সহায়তা, আইনগত কাগজপত্র প্রস্তুতি এবং ফিরে আসা মৃতদেহ গ্রহণ ও সমাধি ইত্যাদি বিষয়গুলো জরুরি হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিহত বাংলাদেশি | ১৬ |
| নওগাঁর মৃত | ১৩ |
| নাটোর (নলডাঙ্গা) মৃত | ৩ |
ঘটনাটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও নিয়মিত পরিদর্শনের গুরুত্বপূর্ণতাকে। প্রবাসী খাতের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো এখন দ্রুত, নির্ভুল ও সহানুভূতিশীলভাবে তথ্য জানতে চাইছে—এবং মরদেহ ফিরিয়ে আনা ও শেষকৃত্যের উদ্যোগ সরকারের সাথে কূটনৈতিকভাবে সমন্বয় করে দ্রুত সারা শেষ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।