সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত একটি সোফা তৈরির কারখানায় মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) আগুন লাগলে সেখানে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁর ক্ষত ও নিহতদের পরিচিতি
জেলা প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, নিহত নওগাঁর প্রবাসীদের বেশির ভাগই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে আত্রাই ও নওগাঁ সদর উপজেলার নামগুলো স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ধৃত তালিকায় থাকা কয়েকজনের নাম ও গ্রামের তথ্য প্রশাসন ও নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে সংগৃহীত।
- নওগাঁর আত্রাই উপজেলার: সাগর (সাদনগর), মজিদুল (খরস্রোতা), আব্দুল জলিল (খরস্রোতা), ফরিদ শেখ (উজানপৈ), সুমন (দুবাই গ্রাম), হাসিবুল হাসান শুভ (দুবাই গ্রাম), মহন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক, রুবেল প্রামাণিক, কলিমুল্লাহ প্রামাণিক, হৃদয় (বোয়ালা), মিনহাজ (মধ্যবোয়ালিয়া)।
- নওগাঁ সদর: শাহিন (পার-নওগাঁ এলাকা)।
- নাটোর নলডাঙ্গা থেকে: মো. সাব্বির হোসেন শুভ, শামীম হোসেন, রবিউল আউয়াল হৃদয়।
কারখানার অবস্থা ও আগুনের বিবরণ
প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা কারখানায় কাজ চলাকালীন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানাটি দ্রুত দাহ্য ফোম, কাপড় ও অন্যান্য উপকরণে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের হয়ে আসা অসুবিধা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সৌদি ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে সংগ্রাম করে এবং পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলোতে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও শ্রম কল্যাণ উইং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম করছে।”
স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক তৎপরতা
ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে নওগাঁ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি মনিটরিং শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও নিহতদের পরিবার ও যোগাযোগ লাইনে রয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবরকম সহযোগিতা চলছে।
ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর বর্তমানে দুঃশ্চিন্তায় ও আঘাতগ্রস্ত; অনেকেই বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের খবর পেয়ে নিশ্চিতকরণের জন্য অপেক্ষা করছেন।
প্রভূত মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
স্থানীয়ভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু একাধিক পরিবারের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেই থেমে থাকবে না, বরং গ্রামের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রবাসী হিসেবে বিদেশে কর্মরত মানুষদের আয় অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্জনশ্রী, ফলে আত্মীয়দের হঠাৎ মৃত্যু পরিবারগুলোর আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেবে।
নিজ এলাকায় করণীয় ও ভবিষ্যত চিন্তা
প্রবাসী পরিবারগুলোকে জরুরি মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজকর্মীরা। পাশাপাশি বিদেশে কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা মানদণ্ড ও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আরও শক্তিশালী প্রচারণা চালানোর আহ্বান উঠেছে।
| মোট নিহত | নওগাঁর মৃত | অপর জেলা (নাটোর) |
|---|---|---|
| ১৬ | ১৩ | ৩ |
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও মৃতদের দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ যোগাযোগে রয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাড়াতাড়ি মরদেহ প্রত্যর্পণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে শোক sustained পরিবারগুলো দ্রুত শেষকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।
এসময় পর্যন্ত ঘটনার অতিরিক্ত বিস্তারিত—যেমন আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা নিয়ম লঙ্ঘনের তথ্য বা আরও আহতের সংখ্যা—নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া মাত্র তা জানানো হবে।