রাজনীতি রাজশাহী রাজশাহী (24)

রাজশাহীতে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও বিবাদ

রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নকে নিয়ে দুই পক্ষই মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এক পক্ষ দ্রুত সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবি করে, অন্য পক্ষ বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছে।

রাজশাহীতে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও বিবাদ
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিবাদ

রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকা আপত্তিকর পরিস্থিতি শনিবার (৮ আগস্ট) শহরে প্রকাশ্যে আসে। ইউনিয়নকে নিয়ন্ত্রণ করার দাবিতে দুই গ্রুপই পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। সকাল ১১টায় সপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে এক পক্ষ মানববন্ধন করে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় নওদাপাড়ার ইউনিয়ন কার্যালয়ে অন্য পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।

প্রধান দাবী ও অভিযোগ

আন্দোলনকারী পক্ষের মুখপাতা সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে ‘‘সরকার পতনের পর কিছু শ্রমিক নামধারী ব্যক্তি ইউনিয়ন দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন"। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে ইউনিয়নে সাধারণ সভা ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি এবং তাই দ্রুত সাধারণ সভা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। অভিযোগের সঙ্গে তিনি আরও বলছেন যে ইউনিয়নের শ্রমিকদের জন্য হওয়া বিভিন্ন সহায়তা — মেয়ের বিবাহ ভাতা, ছেলের শিক্ষা ভাতা ও মৃতকালীন অনুদান — যথাযথভাবে প্রদান করা হচ্ছে না।

“আমরা চাই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হোক। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।”

অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে যে ইউনিয়নের মোট সদস্য প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন হলেও মানববন্ধনে উপস্থিতি কম ছিল। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আন্দোলন ও কর্মবিরতি করা হবে এবং প্রয়োজনলে ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কমিটির প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মাইনুল হক মানা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বৈধ ও ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে; তাই এখনই নির্বাচন আয়োজন করা যাবেনা। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী কমিটি বড় অঙ্কের আর্থিক দায় রেখে গেছে এবং বর্তমান কমিটি প্রাপ্য সুবিধাগুলো সীমিত আয়ের শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণের চেষ্টা করছে। তিনি ভবিষ্যতে পূর্ববর্তী কমিটি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভিড়লো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—একটি ভিডিও

বিবাদ তীব্র হওয়ার একদিন আগে—শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাজ্জাদ হোসেন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে মেয়ের বিয়ের জন্য প্রদত্ত ভাতার টাকা নিচ্ছেন। বিষয়টি স্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন জানান যে তার কন্যার বিয়ের জন্য তিনি মোট ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন পূর্বের ও বর্তমান কমিটি আলাদাভাবে নির্ধারিত অঙ্কের প্রদানে যুক্ত ছিল। এই ভিডিও ঘটনাটি উভয়পক্ষের মধ্যে আস্থা ও টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।

বিষয় প্রদানকৃত তথ্য
ইউনিয়ন সদস্য ২,৭০০ জন (প্রায়)
মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন সপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সামনের মানববন্ধন; নওদাপাড়া কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন (৮ আগস্ট)
ভিডিও প্রকাশ ৭ আগস্ট—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো

প্রভাব ও অগ্রাধিকার

এই দফায় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্থানীয় পরিবহনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে যদি কর্মবিরতি বা যানবাহন বন্ধের মতো হুমকি বাস্তবে নামায়। ইউনিয়ন যেহেতু প্রায় দুই হাজার সাতশো শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের অসুবিধা শহরের সরবরাহ শৃঙ্খল ও ছোট ব্যবসাগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

  • দাবিদারিতে বিভাজন—এক পক্ষ তাত্ক্ষণিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবি করছে, অন্য পক্ষ কমিটির মেয়াদ বৈধ বলে প্রতিরোধ করছে।
  • বিশ্বাস সংকট—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে আস্থা কমে গেছে।
  • আইনগত বিকল্প—বর্তমান সভাপতি পূর্বের দেনা ও দায় নিয়ে আইনি পথ অবলম্বন করার কথা বলেছেন।

স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক অধিদপ্তরের কোনো সরাসরি মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে না আসায় আপাতত দ্বন্দ্ব উভয়পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধান ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দাবি শ্রমিক সাধারণের অধিকার ও ইউনিয়নের কার্যকারিতা রক্ষার জন্য জরুরি বলে মনে করছেন কিছু পর্যবেক্ষক।

খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষই তৎপরতা অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন; কিন্তু সংঘর্ষ এড়াতে সমাধান ও মধ্যস্থতার আহ্বান স্থানীয় নেতৃত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণির কাছে উচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

24রাজশাহী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো রাজশাহী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব