অবস্থা ও দ্রুত ব্যবস্থা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম সিমন গতকাল শনিবার দুপুরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় সকাল ১১টার দিকে সিমনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং রোগীর তাত্কালিকভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।
আইসিইউ শয্যা ও স্থানান্তরের বিশদ
প্রাথমিকভাবে আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় চিকিৎসা জটিলতার সম্মুখীন হলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যস্ততা ও সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। তথ্যে বলা হয়েছে যে, সিমনের শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে চিকিৎসকেরা সড়কপথে ঢাকায় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। তাই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইসিইউসহ ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করা হয় এবং রবিবার সকালে তিনি ঢাকায় পাঠানো হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও হাসপাতালে বুকিং
ইনস্টিটিউট পরিচালক অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জানালেন, “সিমনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া তাঁকে স্থানান্তরে সম্মতি দেননি। পরে পরিবার ও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”
“সিমনের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়,”
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামও আপন কর্তব্য হিসেবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেন, তাত্বিকভাবে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে আইসিইউ বুকিং—তথ্যটিতেও উপাচার্যের সরাসরি সহযোগিতার উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| শনিবার, সকাল ১১টা (প্রায়) | স্ট্রোকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ—সিমনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি |
| ভর্তির পরে | শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউ প্রয়োজন দেখা দেয় |
| রবিবার, সকাল | উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নোত্তর
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে — প্রত্যন্ত সময়ে উচ্চগতির চিকিৎসা পৌঁছানো, রাজশাহীতে উন্নত নারোসার্জিকাল সেবার ঘাটতি এবং জরুরি আইসিইউ শয্যার সীমাবদ্ধতা। রাবির একজন শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়; তবু এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে যত দ্রুত এবং স্বল্প ঝুঁকিতে রোগী স্থানান্তর করা যায় সেই সিস্টেমগত প্রস্তুতির ওপর আলোকপাত করে।
- ঘটনাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাস্তায় নজিরবিহীন নয় — তবে জরুরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের কেসটি কমই ঘটে।
- চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমন্বয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হাসপাতাল ও পরিবারের সমন্বয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে আইসিইউ বুকিংয়ে উপাচার্যের সরাসরি সহযোগিতার কথা উল্লেখ আছে।
এই রিপোর্ট তৈরি করার সময় হাসপাতাল থেকে রোগীর সুনির্দিষ্ট অবস্থা বা চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যই প্রতিবেদনের ভিত্তি। রাজশাহীবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির জন্য এ ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানে স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।