ফেনী: ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে। অভিযানটি ১১ আগস্ট ফেনীর পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্ত এলাকায় এবং চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত হয়।
অভিযান ও জব্দকৃত মালামাল
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় বিভিন্ন পরিবর্তিত অবস্থানে থেকে মূলত পোশাক類 এবং আনুষঙ্গিক পণ্যের বড় টুকরো জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস এবং সানগ্লাস। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মালামাল পরবর্তীতে কাস্টমসে হস্তান্তরের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
- অভিযানকারি ইউনিট: ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)
- তারিখ: ১১ আগস্ট ২০২৬
- জব্দকৃত মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য: প্রায় ৫০ লাখ টাকা
- প্রধান জায়গাগুলো: পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী (ফেনী) ও জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম)
বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে মাদক, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোন ধরণের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ ও তৎপর রয়েছে।”
স্থানীয় প্রভাব ও ব্যবস্থাপনা
সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব অনিয়ম স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়ীর ওপর প্রভাব ফেলে; বিশেষ করে অসম বা অবৈধ পণ্যের প্রবেশ স্থানীয় ব্যবসার প্রতিযোগিতা ও মূল্যমানকে প্রভাবিত করে। বিজিবি অভিযান শেষে জব্দকৃত মালামাল কাস্টমসে হস্তান্তর করলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষিত থাকবে। এ কারণে ওই মালামালের বৈধতা ও কর-দায়কতা নিরূপণ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অপরদিকে সীমান্তবর্তী গ্রাম ও বাজারে কর্মরত মানুষজনের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার প্রেক্ষিতে বিজিবির এই ধরনের অভিযান স্থানীয়দের কাছে আশ্বাসবহ। তবুও নিয়মিতভাবে অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও তার কার্যকারিতা বজায় রাখতে বিজিবি ও সীমান্তবর্তী অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার সমন্বয় অপরিহার্য বলে স্থানীয় নেতারা মনে করেন।
স্থানীয় দায়িত্বশীলদের বক্তব্য
বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান উদ্ধার সংক্রান্ত বিবৃতিতে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত রুটিন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
| অবস্থান | জব্দকৃত পণ্যের ধরণ | মোট অনুমান মূল্য |
|---|---|---|
| পরশুরাম (ফেনী) | ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, সানগ্লাস | মোট প্রায় ৫০ লাখ টাকা |
| ছাগলনাইয়া (ফেনী) | ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, সানগ্লাস | |
| ফুলগাজী (ফেনী) | ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, সানগ্লাস | |
| জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) | ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, সানগ্লাস |
জব্দকৃত মালামাল কাস্টমসে হস্তান্তরের পর আইনী প্রক্রিয়া শেষ হলে মালামালের উৎস ও শাখা-প্রশাখা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি একসঙ্গে কাজ করে সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় রয়েছে।
ফেনী অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুশৃঙ্খল রাখার জন্য স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত সচেতনতা ও সমন্বয় আবশ্যক। বিজিবির এই ধরণের অভিযান নীরব সহায়ক নয়—এটি স্থানীয় অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফেনী থেকে রিপোর্ট করেছে, আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS