পটুয়াখালীর দুমকিতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীকে অপসারণের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। উপজেলা পরিষদের সামনে ‘ছাত্র ও জনগণ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা ইউএনওর বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অপ্রতুল ব্যবস্থা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়মের পরিচয় দিয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে পক্ষপাতত্বের অভিযোগ তুলেছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কয়েকজন স্থানীয় জুনিয়র রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী এবং বেশ কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’। বক্তারা বলেন, মাদকদমন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখার কথা থাকা সত্ত্বেও ইউএনওর সময়ে নিযুক্ত প্রশাসনের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। এসব অভিযোগের মধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে পক্ষপাতিত্ব উল্লেখ করে স্থানীয়দের আক্রোশ ব্যাক্ত করা হয়।
“ইউএনওকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় উপজেলা থেকে চলে না গেলে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।”
উক্ত বক্তব্যটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা শারমিন আক্তার স্বর্ণার। অন্য একজন, জুলাই যোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থী আবু রাফিও ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ক্ষমতাশালীদের স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ তুলে ধীরে আক্রোশ প্রকাশ করেন।
কর্মসূচির ধরণ ও বাস্তবায়নের দাবি
প্রচলিত মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলে বক্তাগণ বিশেষ করে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন —
- ইউএনওর অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে তদন্ত;
- মাদকদমন কার্যক্রমে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া;
- শুমারিতে স্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্ব দমন করা।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে এগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান। মানববন্ধন ও মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
| কার্যক্রম | স্থান ও সময় |
|---|---|
| মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল | উপজেলা পরিষদ ভবন, দুমকি — মঙ্গলবার সকাল ১০টা |
| ডিমান্ড | ইউএনও অপসারণ, মাদক দমন, শুমারি স্বচ্ছতা |
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া ও ঘটনাস্থলের পর্যবীক্ষণ
উক্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদদাতাদের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাস্থলে কোণঠাসা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়—বক্তারা চান অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হয় এবং ফলাফল জনগণের কাছে জানানো হয়। এছাড়া ধরা পড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে।
দুমকি উপজেলা এক সরকারি প্রশাসনিক অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় নাগরিকদের জীবনযাত্রা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সামাজিক অনিয়ম রোধে ভূমিকা রাখে। তাই ইউএনওর উপর করা অভিযোগ স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা আর জনসেবার কার্যকারিতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে সভায় উপস্থিতদের মধ্যে।
স্থানীয়ভাবে এই ঘটনাটি যে ধরনের আগ্রাসনমূলক আন্দোলনের দিকে ধাবিত হবে, সেটি আসলেই নির্ভর করছে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফলের ওপর। স্থানীয় নাগরিকরা এখন দ্রুত ও ন্যায্য তদন্ত এবং সমস্যা চিহ্নিত করে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
রিপোর্ট: পটুয়াখালী থেকে