পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়ে দীর্ঘদিন রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে ও অনুমোদনবিহীন পরীক্ষা ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করার অভিযোগে এক ফার্মেসি মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০,০০০ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ না দিলে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে—এ কথা জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা।
কী ঘটেছিল
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা নেতৃত্বে জগদল বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম রিনা এবং সদর থানা পুলিশের একটি দল। অভিযানে জরিমানা করা ব্যক্তি হলেন ওই এলাকার ফার্মেসির মালিক রোকসানা আক্তার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানানো হয়, রোকসানা আক্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়েছেন, কিন্তু চিকিৎসক না হয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ—অ্যাণ্টিবায়োটিকসহ—প্রদান করে আসছেন। অভিযানের সময় ফার্মেসিতে অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষার বিজ্ঞাপনও পাওয়া যায় এবং এইসব পরীক্ষা পরিচালনার কোন অনুমোদন তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি।
অভিযোগ ও পূর্বের ঘটনাবলী
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট একটি ঘটনা রয়েছে; তখন সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসা সেবা ও প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন রোকসানা আক্তার। পরে ঐ নারীর গর্ভে থাকা সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে করোনো হয়েছিলো—যেটি অভিযোগ ভিত্তি হিসেবে সাংবাদিকতা ও প্রশাসন পর্যন্ত পৌঁছে। অভিযানের পর সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই কড়াকড়ি কার্যক্রম চালানো হয়।
“চিকিৎসক না হলে প্রেসক্রিপশন লেখা ও বৈধতা নিশ্চয়তা ছাড়া টেস্টের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়—অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,”
আইনি ধারা ও জরিমানার পরিণতি
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, উল্লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী রোকসানা আক্তারকে ২০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা জানান, জরিমানার অর্থ যদি পরিশোধ না করা হয়, তাহলে অভিযুক্তকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
- অভিযান তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)
- জরিমানা: ২০,০০০ টাকা
- অনাদায়ে জরিমানা হলে কারাদণ্ড: ১৫ দিন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান স্থান | জগদল বাজার, পঞ্চগড় সদর |
| অভিযানকারী | ইউএনও ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও থানা পুলিশ |
| অভিযোগের সারমর্ম | চিকিৎসক না হয়ে প্রেসক্রিপশন লেখা; অনুমোদনবিহীন টেস্ট বিজ্ঞাপন |
এ ঘটনার তাত্পর্য স্থানীয় জনস্বাস্থ্য রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি ফার্মেসি থেকে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বা অযোগ্য ব্যক্তি যদি প্রেসক্রিপশন তৈরিতে লিপ্ত হন, তাহলে রোগীর জীবন ও সেবা গ্রহণে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগ সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকছে বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার মান রক্ষা ও অনুমোদনবিহীন চিকিৎসা কার্যক্রম প্রতিরোধে ভবিষ্যতে আরও অভিযান পরিচালনা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।