খুলনার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সবুজ খাঁ নামের এক যুবককে জাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও জরানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
অভিযোগ ও মামলা-কথা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় মধ্যডাঙ্গার এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির ছজন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই বিকেল সাড়ে তিন থেকে চারটায় সৃষ্টি ঘটনা: আসামি সবুজ মুরগি দেখানোর প্রলোভনে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে ধর্ষণ করে। পরে শিশু তা কাউকে না জানাতে ভীতি দেখানো হয়।
পরবর্তী দিন ভুক্তভোগীর মা দৌলতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেনের আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রায় ও আদালতের কার্যবিধি
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন। রায়ের বিষয়টি বেঞ্চ সহকারী ইকবাল মাহমুদ নিশ্চিত করেন। আদালতশাস্ত্রে সাক্ষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তের ঠিকানা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সবুজ খাঁ দৌলতপুরের পালপাড়া কোপার বিল এলাকার বাসিন্দা; বাবার নাম কেরামত আলী। এলাকার বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঘটনা মাথায় আসা কঠিন ছিল। স্কুল-পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়রা অনেকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
আইনি ধারাসমূহ ও তদন্ত-পথ
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দায়ের করা হয়েছিল। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণাদি জজমেন্টে উপস্থাপন করেন। ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি শেষে আজকের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | বর্ণনা |
|---|---|
| ৭ জুলাই ২০২৪ | দুপুরে মুরগি দেখানোর প্রলোভনে শিশুকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ। |
| ৮ জুলাই ২০২৪ | ভুক্তভোগীর মা দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। |
| ১৩ আগস্ট ২০২৫ | তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। |
| ১ এপ্রিল ২০২৬ | ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। |
| ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রায়: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকার জরিমানা (অনাদায়ে ৬ মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ড)। |
আইনি ও সামাজিক পরামর্শ
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বোঝাইযোগ্য সংকেত-চিহ্ন সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং স্কুল-পরিবহন ও আশে-পাশের পরিবেশে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ স্থানীয় সমাজকর্মী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে দেন। এ ধরনের ঘটনার পরে দ্রুত মা-বাবা বা অভিভাবককে থানায় অভিযোগ করার মাধ্যমে আইনী প্রক্রিয়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ — কারণ প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষ্যাদি পরে ক্ষতিপূরণের পথে সহায়ক হয়।
পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ
- রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত কারও আপিলের অধিকার আছে; আপিল করলে মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলে রায় পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
- ভিকটিম ও পরিবারের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন পড়তে পারে; সেক্ষেত্রে স্থানীয় এনজিও ও সামাজিক কল্যাণ সংস্থাগুলি ভূমিকা নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এই মামলাটি খুলনার শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও আইনি বিধি-ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন তোলে। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে শিশুদের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।