ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় গত বছর একটি স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র পলাতক আসামি রিফাত পারভেজ শাওন (২৫)কে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারির ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে র্যাব জানিয়েছে, অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয় ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট-ে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানাধীন দোয়েল চত্বর মোড় এলাকায়।
অভিযোগ ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশি ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলে যাতায়াতের পথে রিফাত নানা সময়ে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করতেন। তাদের মধ্যে পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা আছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে সকাল দশটার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সূত্রে মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করে তার বাবা ২০২৬ সালের ১২ জুন ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাবের তদন্ত ও গ্রেপ্তারের পটভূমি
র্যাব-৯ ও র্যাব-৬ যৌথভাবে পরিচালিত অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার ধারাবাহিকতায় পলাতক আসামিকে শেষ পর্যন্ত ঝিনাইদহে পাওয়া যায়। র্যাব জানায়, উদ্ধারকালে আসামি মিরপুরে একটি বাসায় ভাড়া থেকে ছাত্রীকে স্বামী-স্ত্রীর ভান করে রাখতেন এবং ওই মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে মেয়েটি যখন পূর্ণবয়স্ক হয়ে ওঠে, তখন তাকে বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিয়ে না করার কথা জানিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে মামলায়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রিফাত পারভেজ শাওন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বড়ইছরা গ্রামের কামাল পারভেজের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। সরাইল অঞ্চলের অভিভাবকরা শিক্ষার্থীর পথপথিত্রতায় এবং জনসমক্ষে হওয়া সম্ভাব্য হয়রানির বিষয়ে সচেতন। এই ধরনের ঘটনা এলাকায় আয়ের সামাজিক ও মানসিক প্রভাব ফেলে—বিশেষত যখন অভিযুক্ত পলাতক অবস্থায় থাকেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কমিউনিটি স্তরে কিছুটা সান্ত্বনা সৃষ্টি হলেও অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, বিদ্যালয়ের কাছে ও প্রধান পথগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সচেতনতা কর্মসূচি ও পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আইনী কাঠামো ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো অভিযোগের প্রমাণাদি সংগ্রহ ও সাক্ষ্য-প্রবররনের ব্যবস্থা করবেন। বিচার বিভাগীয় কার্যপ্রণালী শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ মামলা পরিচালিত হবে।
- গ্রেপ্তারকৃতের নাম: রিফাত পারভেজ শাওন (২৫)
- ঘটনা স্থান: সরাইল উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- গ্রেপ্তারের স্থান: ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানাধীন দোয়েল চত্বর মোড়
- মামলার তফসিল: স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ
| তথ্য | তারিখ / সময় |
|---|---|
| অপহরণ ঘটনার তারিখ | ১৪ মে ২০২৫ (প্রতিবেদন সূত্র) |
| মেয়েটি উদ্ধার করা হয় | ১২ জুন ২০২৬ (র্যাবের ভাষ্য) |
| আসামি গ্রেফতার | ৩১ আগস্ট, সন্ধ্যা ৬:৪০ (ঝিনাইদহ) |
স্থানীয়দের দাবি ও পরামর্শ
স্থানীয় সমাজকর্মী ও অভিভাবকরা স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র অপহরণ রোধ করাই যথেষ্ট নয়; ঘটে যাওয়ার পরে বইতে হয় সমস্যার প্রতিকার—আইনের দ্রুত প্রয়োগ, নজরদারি বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা প্রচার equally জরুরি।
এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফল জানালে পাঠকরা সম্যকভাবে অবহিত করা হবে।
হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি