মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় গত মঙ্গলবার বিকেলে একটি ঘরে অজ্ঞাত কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণটি সেই মসজিদেরই ইমামের থাকার ঘরের বারান্দায় ঘটে এবং ঘরের টিনের বেড়া উড়ে যায়. ঘটনার সময় কেউ হতাহত না হলেও প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
বিস্ফোরণটি যে ঘরে ঘটেছে, সেখানে ওই এলাকার মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার থাকেন। পলਿਸ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের পাশে ইমামের থাকার ঘরটি থেকেই শব্দটি আসে। মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকন এবং আরও দু'জনের কাছে ঘরের চাবি ছিল। ঘটনার সময় ইমাম চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক সম্পর্কিত আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনার প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পশ্চিমগত বিস্ফোরণের প্যাটার্ন ও স্থানীয় উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদারীপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ছে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ বেড়েছে।
- গত ২৬ আগস্ট: সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ।
- ১৫ আগস্ট: কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণ; এতে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত।
- বর্তমান ঘটনা: ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়ায় মসজিদের ইমামের ঘরে বিস্ফোরণ, টিনের বেড়া উড়ে গেছে; আহত নন।
| তারিখ | স্থান | ঘটনার ধরন | প্রভাব |
|---|---|---|---|
| ২৬ আগস্ট | ঘটমাঝি ইউনিয়ন, দক্ষিণ ঝিকরহাটি | হাতবোমা বিস্ফোরণ (পরিত্যক্ত বাড়ি) | আলামত সংগ্রহ |
| ১৫ আগস্ট | কালকিনি পৌর, মহিলা মাদরাসা | ককটেল বিস্ফোরণ | ৫ শিশু আহত |
| সাম্প্রতিক | ঝাউদি ইউনিয়ন, হোগলপাতিয়া | মসজিদের ইমামের ঘরে বিস্ফোরণ | টিনের বেড়া উড়ে গেছে; কেউ আহত নয় |
পুলিশের সঙ্গে কথা বললে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা প্রথম আলোর কাছে বলেন,
“মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।”
উল্লেখ্য, স্থানীয় একটি সূত্র পুলিশকে জানিয়েছে, মাদারীপুরে ঘরে ঘরে ককটেল বোমা তৈরির একটি প্রবণতা রয়েছে; লোকেরা এটি প্রতিরক্ষা, প্রতিপক্ষকে আঘাত বা স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে থানার পক্ষ থেকে ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন ও আঞ্চলিক বিরোধ-ভিত্তিক বলেও বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কোনও সুসংগঠিত উগ্রবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা। অনেকেই দাবি করেছেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং পরিত্যক্ত বাসা–বাড়ি পরিদর্শন ও নিরাপত্তা শক্তিকে শক্তিশালী না করা হলে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের পর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্ফোরণের এই ধারা মাদারীপুরে সামাজিক উদ্বেগ সৃষ্টি করায় স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের অন্যান্য অংশকে একসঙ্গে কাজ করে সক্রিয় প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে—এটাই এখনকার সময়সাপেক্ষ দাবি বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।