পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোলানীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সরকারের ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে দলীয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর সরেজমিন তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে—পঞ্জিকাভুক্ত পত্রে এ কথা জানানো হয়েছে।
অভিযোগ ও দলীয় প্রত্যুত্তর
অভিযোগকারী মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম হাসনুর রশিদ জানায়, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর তাকে তালিকায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য মসজিদের দুই মুসল্লি—আবদুল খালেক ও আইবুল হক প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে বলা হয়, ১০ হাজার টাকা দিলেই নাম তালিকায় রাখা হবে। টাকা দিতে অপারগতা দেখালে তার নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ নামাতে না পারায় রাত আড়াইটার দিকে অভিযোগে নাম থাকা মতে আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশ ও কয়েকজন হাসনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নাম বাদ দিয়ে অন্য তিনজনের নাম তালিকায় পাঠানো হয়েছে।
দলীয় ব্যবস্থা ও তদন্ত
ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপি নেতারা সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আবদুল খালেককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
| তারিখ | ঘটনাবলি |
|---|---|
| ৭ আগস্ট | হাসনুর রশিদ লিখিতভাবে অভিযোগ দেন |
| পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির তদন্ত (তারিখ সাইটে স্পষ্ট নয়) | সরেজমিন তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় |
| ১০ আগস্ট | আবদুল খালেককে সাময়িক অব্যাহতি দেন দলীয় নেতা |
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া
"আমার কাছে ইমাম মুয়াজ্জিনের তালিকা চাওয়া হয়। তবে মুয়াজ্জিন হাসনুর রশিদকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আগেই বাদ দেওয়া হয়। তবে তিনি আমাকে জানান, তাকে নিয়োগ দিলে মসজিদে ৩০ হাজার টাকা দেবেন। পরে তাকে নিয়োগ না দেওয়ায় তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।"
উপরের বক্তব্য অভিযুক্ত আব্দুল খালেকের বলে সংবাদ উৎসগুলোতে উল্লেখ আছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘটনা সম্পর্কে তার বিপরীত দাবি রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সার্বিক প্রভাব
স্থানীয় স্তরে এমন ধরনের অভিযোগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দায়বোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নীতিগতভাবে সরকার প্রদানের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই কয়েদার তালিকা, কমিটির কার্যক্রম ও স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
- অভিযোগকারী: হাসনুর রশিদ—মোলানীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম।
- অভিযুক্ত: আব্দুল খালেক—পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (সাময়িক অব্যাহতি কার্যকরি)।
- অন্য নামে যুক্ত: আইবুল হক ও সাজ্জাদুর রহমান আকাশ (ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখিত)।
উল্লেখ্য, যারা ভাতার তালিকায় নাম পাঠানোর দাবিতে অথবা তালিকাভুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান, তাদের জন্য স্থানীয় মসজিদ কমিটি, উপজেলা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে লিখিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। অভিযোগের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে—লিখিত অভিযোগ, দলীয় তদন্ত, এবং সাময়িক অব্যাহতি—তা স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের স্ব-শৃঙ্খলা প্রদর্শনকে স্পষ্ট করে।
অনুমান ও পরবর্তী ধাপ
দলীয় নেতারা বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহতি কার্যকর থাকবে। মামলা বা প্রশাসনিক তদন্তের বিষয়ে সংবাদে কোনো তথ্য নেই। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়ের বক্তব্য নেয়া হয়েছে; তবে ব্যাপকভাবে তদন্ত চালিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা দল জানিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা যদি স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করেন, তা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিবাদ কমবে—এই ইঙ্গিত দিয়েই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।