নাটোরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ছাত্রদল ও যুবদলের বিক্ষোভ-আন্দোলনের প্রভাবে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কী ঘটেছে: ঘটনাবলি ও অভিযোগ
বুধবার দিনভর লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে কিছু পর্যায়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বরাবরের মতো গণমাধ্যমের লোকজন কাজ করার সময় বাধার সম্মুখীন হন এবং সংবাদশাখার কাজকর্মে বাঁধা পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকর্মীরা কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা শুধু উপজেলা নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত
নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ জানান, রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির ভিত্তিতে লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর—এই চার উপজেলায় নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। জেলা কার্যালয় শুধুমাত্র উপজেলা কর্তৃপক্ষকে স্থগিতাদেশের বিষয়ে অবহিত করেছে, তিনি বলেন।
কোন কোন উপজেলা ও পদ প্রভাবিত হয়েছে
| উপজেলা | প্রভাবিত পদ |
|---|---|
| লালপুর | তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার |
| বাগাতিপাড়া | তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার |
| বড়াইগ্রাম | তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার |
| গুরুদাসপুর | তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার |
প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
নিয়োগ পরীক্ষার ফল স্থগিতের ফলে আবেদনকারী-প্রার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক স্তর এবং প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরীক্ষার ফল বাতিলের দাবি তুলে ছাত্রদল-যুবদলের তাগিদে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের স্থগিতাদেশ এসেছে। এটি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সংকেত দেয়।
- প্রার্থীরা আপাতত ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত নয়; পুনরায় তফসিল বা তদন্তের নির্দেশ আসা পর্যন্ত পদ গ্রহণ ও নিয়োগ কার্যক্রম কার্যকর থাকবে না।
- সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদে নেমেছে এবং নিরাপত্তা ও কক্ষে স্বাধীন সংবাদ তদন্তের দাবি করেছে।
- উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্থগিতাদেশ অনুসারে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুর এবং সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে; এতে অন্তত কিছু সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং তাঁদের ফোন-ডেটা মুছে ফেলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরবর্তী নির্দেশনা প্রকাশ না করা পর্যন্ত স্থগিতাদেশের বিষয়টি অনুসরণ করছে।
অবসরপ্রাপ্ত বা প্রত্যাশী প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা কী হবে এবং প্রশাসন কীভাবে অভিযোগের তদন্ত করে ফল প্রকাশের স্বচ্ছতা ফেরাবে তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে। স্থানীয় রাজনীতি ও যুব সংগঠনের আন্দোলন এই ঘটনার প্রেক্ষাপটকে আরেক ধাপে প্রবেশ করিয়েছে, ফলে নাগরিকদের মধ্যে তথ্যপ্রাপ্তি ও সরকারি নিয়োগ পদ্ধতির স্বচ্ছতা বিষয়ে সরু নজর ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।