নাটোরে প্রশাসন গত মঙ্গলবার শহরের দক্ষিণ চৌকির পাড় এলাকায় হোমিওপ্যাথি কলেজ সংলগ্ন প্রায় ১ দশমিক ৩৭ একর সরকারি জমি উদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
দখলের ইতিহাস ও স্থানীয় পরিস্থিতি
ভূমি প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই জমিটি দীর্ঘ সময় ধরে বেদখল থাকলেও বরাবরই বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানেই জমি দখলদার মহসিন আলী ওরফে সোনারকে উচ্ছেদ করে সেখানে জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন জমি বলেই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয় এবং চারপাশে লাল নিশানাও টানানো হয়েছে।
মহসিন আলী ওরফে সোনার বলেন, "আগের সরকারের সময় ক্ষমতাশালী এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে আমি ওই জমিতে মাছ চাষ করছিলাম।"
ভূমি প্রশাসন জানিয়েছে, জমিটি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত এবং প্রাকৃতিকভাবে পুকুরে রূপান্তরিত হওয়ায় বহু বছর ধরে অননুমোদিতভাবে ভোগদখল করা হয়েছে। নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরহাদ হোসেন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এবং ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
প্রশাসনের পরিকল্পনা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরহাদ হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত জমি সাইরাট খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এটি ইজারা দেওয়া হবে। তিনি বলেন যে জমিটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বেদখলে ছিল এবং এ ব্যাপারে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অভিযানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন—এতে স্থানীয় স্তরে সম্পত্তি স্বত্ব ও রাজনৈতিক জড়িততার প্রতিফলনও দেখা গেছে। প্রশাসন সাইনবোর্ড স্থাপন করে সরকারি মালিকানার স্পষ্টভাবে নথিভুক্তি নিশ্চিত করেছে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় অনধিকৃত ব্যবহার রোধ করা যায়।
- অবস্থান: নাটোর শহর, দক্ষিণ চৌকির পাড়, হোমিওপ্যাথি কলেজ সংলগ্ন
- আয়তন: ১.৩৭ একর
- আনুমানিক মূল্য: ১৪ কোটি টাকা
- দখলের সময়কাল: ৩৫ বছর
- প্রক্রিয়া: প্রশাসনিক উদ্ধার, সাইনবোর্ড, লাল নিশানা
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জমির প্রকৃতি | সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত (সাইরাট খাস) |
| আয়তন | ১.৩৭ একর |
| অবমূল্যায়ন মূল্য | প্রায় ১৪ কোটি টাকা |
| দখলকারী | মহসিন আলী (ওরফে সোনার) সহ স্থানীয়রা |
স্থানীয়দের বক্তব্য ও ঐতিহ্যগত প্রেক্ষাপট
স্থানীয় জনবহুল এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ভোগদখলে চলে আসছে এবং পরে অন্যদের কাছে লিজ দেওয়া হতো। সূত্রগুলি বলছে, এভাবেই ধাপে ধাপে জমিটি ভোগদখল হয়ে আসছিল এবং সোনারও পরে ওই জমি ব্যবহার করে মাছচাষ করছিলেন।
নাটোর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, "সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমিটি প্রাকৃতিকভাবে পুকুরে রূপান্তরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে জমিটি বেদখলে ছিল।"
এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কেউ歓 সাড়া প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বলছেন প্রয়োজন আরও ব্যাপক তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ।
কীভাবে প্রভাব পরে স্থানীয় সমাজে?
সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল হলে স্থানীয় পরিষেবা, নগর উন্নয়ন ও রাজস্ব আয় প্রভাবিত হয়। পুনরুদ্ধারের পর হওয়ার মতো বিষয়গুলো হচ্ছে—নিয়মিত নজরদারি, ইজারা প্রদানের স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের জানামতে ভূমি ব্যবস্থাপনা। প্রশাসন বলেছেন, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা মেনে জমিটি ইজারার জন্য প্রক্রিয়া চালাবে, যা ভবিষ্যতে অনধিকৃত ব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।
নাটোরে সরকারি সম্পত্তি বেদখল ও উদ্ধারের এমন ঘটনা ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে—এ বিষয়টি প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেল।