নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামের কৃতী শিল্পী এস এম সুলতান-এর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী সোমবার জেলা ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আয়োজন ও অংশগ্রহণে স্মরণ করা হয়েছে। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বর ভোর থেকেই ভিড়ের শহরে পরিণত হয়। দিনের কর্মসূচি পবিত্র কোরআন খতম দিয়ে শুরু হয় এবং সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা সকাল নয়টার দিকে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে ছিলেন নড়াইল জেলা প্রশাসন, সুলতান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুদের জন্য শিল্পচর্চা
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে দিনটিকে বিশেষ করে শিশুদের জন্য আয়োজিত কার্যক্রমে সময় দেওয়া হয়। আমন্ত্রিত অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ আর্টক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এরপর তারা পর্যায়ক্রমে ভাসমান শিশুস্বর্গ (নৌকা), শিশুসহকারী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও শিশু চিত্রশিল্পীদের চিত্রপ্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। ছোটদের আঁকা চিত্রগুলোতে গ্রামীণ জীবন এবং শ্রমজীবী মানুষের ছাপ পরিলক্ষিত হলো, যা শিল্পীর নিজস্ব ভাষার অনুরূপ বলে আয়োজকদের ব্যাখ্যা।
- কোরআন খতম — সকাল ৬টা (স্মৃতি সংগ্রহশালা)
- শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া — সকাল ৯টা (শিল্পীর সমাধি)
- আর্টক্যাম্প ও শিশু প্রতিযোগিতা — দিনের বিভিন্ন সময়ে
- চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভা — বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন
আলোচনা: জীবন, চিত্রকর্ম ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো
বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশদ আলোকপাত করা হয়। সভার শুরুতেই প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিটাই রায় চৌধুরী নাটকীয়ভাবে এই অর্জনকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী এসএম সুলতান সম্মাননা পদক এইবার প্রাপক হিসেবে পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।
“এস এম সুলতান ছিলেন মাটি ও মুক্ত মানুষের আজীবন রূপকার। তাঁর নিপুণ তুলির আঁচড় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে,”
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য—যেমন জারিগান, যাত্রাপালা, নৌকা বাইচ ও লোকমেলাকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
শিল্পীর জীবনীসংক্ষিপ্ত ও ওারশিপ
এস এম সুলতান ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর চিত্রকর্মে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পেশিশক্তি ও সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান। মহান এই শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর প্রয়াত হন।
| বৎসর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯২৩ | এস এম সুলতানের জন্ম (১০ আগস্ট, মাছিমদিয়া, নড়াইল) |
| ১৯৮২ | একুশে পদক অর্জন |
| ১৯৯৩ | স্বাধীনতা পদক অর্জন |
| ১৯৯৪ | মৃত্যু (১০ অক্টোবর) |
| ২০২৬ | ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন |
আজকের অনুষ্ঠানটি স্থানীয় শিশু ও তরুণদের মধ্যে শিল্পচর্চা উদ্দীপিত করতে এবং শহরের সাংস্কৃতিক পটভূমি সমৃদ্ধ করতে একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে গ্রামীণ বর্জ্যহীন ঐতিহ্য ও শিল্পমাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা হবে।
নড়াইলের সাংস্কৃতিক মহলে এস এম সুলতানের অবদান স্মরণ করে organisers এবং উপস্থিত সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রিয়রা একই বার্তা দিলেন—সুলতানের শিল্প ভাষা যে জেলার পরিচয়, তা সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করা লোকসভার এবং সাংস্কৃতিক নীতিনির্ধারকদেরও দায়িত্ব।