বরিশাল নগরীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও গ্যাস সংকট নিয়ে শনিবার বিকেলে মানববন্ধন ও হারিকেন মিছিল করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা বলেন, এই সমস্যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করছে এবং প্রশাসনকে দ্রুত সমাধান দিতে হবে।
মঞ্চে অভিযোগ ও দাবি
শহরের সদর রোডে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বক্তারা সরকারী গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো বেসরকারি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়াকে সমালোচনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের মতো অপরিহার্য সেবা যদি সুন্দরভাবে পরিচালিত না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ প্রতিকূলতায় পড়বে।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্ররা দাবি তুলেছেন যে:
- বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল তদন্ত করে অনর্থ এবং অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে।
- জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত রাখার জন্য সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধান জরুরি।
কেন্দ্রীয় বক্তব্য ও রাজনৈতিক সমালোচনা
বক্তারা উল্লেখ করেন যে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নানা আন্দোলন থাকলেও অনেক বারের মতো সেগুলো ছিল আড়ম্বরপূর্ণ বা তৎপর্যহীন। বর্তমানে চলমান জনদূর্ভোগের সঙ্কটের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ দেখা না যাওয়ায় তা নিয়েও সমালোচনা করা হয়। আন্দোলনকারীরা বলেছেন, কার্যকর আন্দোলন ছাড়া সমস্যাগুলো অচিরেই মিটবে না।
কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির পাশাপাশি এনসিপি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
| পদবী | নাম |
|---|---|
| এনসিপি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক | আবু সাঈদ মুসা |
| জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল জেলা আহ্বায়ক | কাজী মো. আবু যাঈদ (কাজী) |
| সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক | সায়েম ইবনে আলম |
| সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব | সিরাজুল ইসলাম |
সামাজিক প্রভাব ও নগরবাসীর চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ জানান, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্যপণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে ঘোর বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও হোম অফিসের কাজের ক্ষেত্রে সচল বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় জটিলতা বেড়েছে। এতে করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিও জলন্ত হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
কাজের প্রস্তাবনা ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ
আন্দোলনকারীরা দাবি করেছে যে বিদ্যুতের সেক্টরটিকে সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত করে সরকারের সচেতন মনন নিয়ে পুনর্গঠন করার প্রয়োজন রয়েছে। তারা আরও বলেছেন, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে বাদ দিয়ে নয়—বরং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
কর্মসূচিতে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বলেন, শহরে আজকের মতো প্রতিবাদী অভিযানের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ক্ষতি অনেকটাই কমে যাবে।
কর্মসূচি শেষ পর্যায়ে সংগঠনের নেতারা স্থানীয় জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং দাবিগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা ব্যাপক সমর্থন না পেলে আইনসম্মত আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংক্ষিপ্ত তথ্য: শনিবার বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সদর রোড, বরিশাল—স্থলীয় এই প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে স্থানীয় নেতারা তাদের অভিযোগ ও দাবি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সমাধান চেয়েছেন।