কিশোরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশীরা মানববন্ধন করে তাদের উন্নত ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিগুলো পুনরায় সামনে এনেছেন। ‘‘শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ, কিশোরগঞ্জ’’ আয়োজিত ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ চাওয়া হয়।
মানববন্ধনের আয়োজন ও উপস্থিতি
১১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে শহরের কালীবাড়ি মোড় চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় অনেক শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশী অংশ নেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠন ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারী নেতারা।আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, হুমায়ূন কবির ও এমদাদুল মাহবুব সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও হতাশার কথা তুলে ধরেন।
দাবি ও তাদের যৌক্তিকতা
মানববন্ধনে তুলে ধরা প্রধান তিন দফা দাবি হলো—
- কমিটি নয়, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে;
- এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে;
- যদি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ সম্ভব না হয়, তাহলে পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বহু প্রার্থী যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তারা দাবি করেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি অপ্রথাগত কমিটি প্রয়োগ করা হয় তবে তা অনিয়ম ও আত্মসাৎ বাড়াতে পারে এবং অসংখ্য যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হবে। এজন্য স্থাপিত সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম চালাতে হবে বলে তাদের মনোভাব প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
শিক্ষক নিয়োগ স্থবির থাকায় কিশোরগঞ্জের নিয়োগ প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অনিশ্চয়তা বাড়ছে—অনেকে আর্থিকভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, অনেকে শিক্ষাজীবনে ঝুঁকি নিয়ে রয়েছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ না হলে তারা আরও কর্মসূচি আয়োজনের হুমকি দিয়েছেন।
| আয়োজনকারী | স্থান | তারিখ | প্রধান দাবিসমূহ |
|---|---|---|---|
| শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ, কিশোরগঞ্জ | কালীবাড়ি মোড়, কিশোরগঞ্জ | ১১ আগস্ট, ২০২৬ | এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ; এক সপ্তাহে সার্কুলার; ব্যর্থ হলে পিএসসি |
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরারা স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মপালক দফতরের দ্রুত সমন্বয় ও নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানান। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি সার্কুলার না হলে সংগঠন পর্যায়ের পরবর্তী কর্মসূচি নেয়ার ইঙ্গিতও দেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও জনমত
মানববন্ধন থেকে দলের নেতারা এবং অংশগ্রহণকারীরা মনে করিয়ে দেন যে শিক্ষক নিয়োগ কেবল পদ পূরণের প্রশ্ন নয়; এটি স্থানীয় শিক্ষার গুণগত মান, স্কুল পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শহরের অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টজনদেরও অনেকে ব্যক্তি পর্যায়ে এই দাবির সঙ্গে সংগত অবস্থান তুলে ধরেছেন।
চূড়ান্তভাবে মানববন্ধনকারীরা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের দিকেই তাদের আহ্বান পুনরায় জানান এবং দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার অনুরোধ করেন। তারা বলেন, প্রশাসনিক কার্যপ্রবাহে জোর দিন যাতে দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তা কাটে এবং কিশোরগঞ্জের শিক্ষক প্রত্যাশীরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পেতে পারেন।
নিউজজি/এসএম সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, মানববন্ধনটি বাড়তি উত্তেজনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত সময়ের পরে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেন।