অপরাধ খুলনা খুলনা (59)

খুলনায় সাইবার মনিটরিংয়ে পল্টনের মামলায় গ্রেপ্তার চার: অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার শিকড় খোঁজা হচ্ছে

সিআইডির সাইবার মনিটরিং পরিচালনায় খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান করে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে অনলাইন বেটিং-জুয়া পরিচালনা, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ ও ক্রিপ্টো মাধ্যমে বিদেশে পাচারের প্রচেষ্টা রয়েছে।

খুলনায় সাইবার মনিটরিংয়ে পল্টনের মামলায় গ্রেপ্তার চার: অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার শিকড় খোঁজা হচ্ছে
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

খুলনায় অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিমাণে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা শুক্রবার নয়; গত ২ সেপ্টেম্বর রাতের অভিযানে আটক হয়েছেন এবং বিষয়টি সিআইডি ৪ সেপ্টেম্বরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

গ্রেপ্তারদের পরিচয়

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার চারজনের নাম ও বয়স নিম্নরূপ উল্লেখ আছে।

নাম বয়স
মো. রাকিবুল ইসলাম ৩০
আরিফুল ইসলাম আরজু ২৬
শেখ সাকির আহম্মেদ উল্লেখিত নেই
মিয়ানুল ইসলাম অয়ন ২৯

গ্রেপ্তারদের অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডি গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক রাত ৯টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে—বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য বলা হয়েছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও চক্রের কার্যকারি পদ্ধতি

সিআইডি জানায়, তাদের সাইবার মনিটরিং সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলে নিয়মিত অনলাইন নজরদারির ফলে দেশের ভিতরে ও বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য আসে। তদন্তে পাওয়া মূল পয়েন্টগুলো হলো—

  • বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হতো, যাতে সাধারণ মানুষ অনলাইন জুয়ায় আকৃষ্ট হতো।
  • ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে টপ-আপ/ডিপোজিট করতে হতো; এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির নির্দেশনা দেয়া হতো।
  • অর্থ জমা হলে ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহার করা হতো।
  • এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।
  • সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রাখত এবং বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের মাধ্যমে একত্রিত করে পলিসি অনুসারে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হতো; প্রাথমিক অনুসন্ধানে 'বাইন্যান্স' ধরনের প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার সনাক্ত হয়েছে।

সিআইডি বলেছে, সাইবার মনিটরিং সেলে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রক্রিয়া

খুলনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে অনলাইন বেটিং ও অপরাধমূলক অর্থপাচার চক্রের সক্রিয়তা স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়—ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও অনলাইন আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সিআইডির পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত থেকে আরও সদস্য শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমান পর্যায়ে খোলসা করা তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, অপরাধীর নেটওয়ার্কটি শুধুমাত্র স্থানীয় নয়; দেশের ভেতর ও বাইরে সক্রিয় অংশদার রয়েছে এবং আর্থিক লেনদেন গোপনে চালাতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হচ্ছিল—এই স্বরূপ প্রমাণ সাইবার নিরাপত্তার প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা জোরালো করছে।

সিআইডি ও স্থানীয় পুলিশী সূত্রের তথ্য-নির্ভর এই প্রতিবেদন আরও তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য সংরক্ষণ করা থাকবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

59খুলনা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো খুলনা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব