ফল প্রকাশ ও স্থানীয় চিত্র
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা বছরের ফল ঘোষণার পর যা মোটামুটি উদযাপনের পরিবেশ তৈরি করে, খুলনার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বার অপ্রত্যাশিত হতাশা নেমে এসেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২০,৭৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন; এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪,৪২১ জন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ফল সন্তোষজনক হলেও জেলার মাত্র দুটি বিদ্যালয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
কোন দুটি বিদ্যালয় এবং তাদের অবস্থান
যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী পাসের বাইরে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠান হলো—
- আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা নগরের খালিশপুর
- কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া উপজেলা
আসমা সারোয়ার বিদ্যালয়ের বিবরণ
খালিশপুরের আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করেন। সেখানে নিয়মিত ক্লাস করান ১০ জন শিক্ষক। তবুও চলতি বছর এসএসসিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছিল কেবল ২ জন। ফল ঘোষণার পরে ওই দুই পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হননি। ফল প্রকাশের সময় সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটিতে কেউ উপস্থিত ছিল না।
প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক আছেন ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। এবার বিদ্যালয় থেকে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।”
কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফল
ডুমুরিয়ার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও এবারের পরীক্ষায় ৪ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছিলেন; তাদের কেউ পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অভিভাবক স্তরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
জেলা মোট ক্রমানুযায়ী যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সফল হয়েছে — তবু কোনো কোনো স্কুলে শূন্য পাসের মতো ফলাফল স্থানীয়ভাবে বেশ বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। এই পরিস্থিতি নানা দিক থেকে বিশ্লেষণ দাবি করে—শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পড়াশোনার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও পাঠদানের কার্যকারিতা, স্কুলের পরিচালনাগত অবস্থা (যেমন এমপিওভুক্তির অনুপস্থিতি) এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও উৎসাহ।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| জেলা মোট প্রতিষ্ঠান | ৩৯৩ |
| পরীক্ষার্থী (মোট) | ২০,৭৩৯ |
| উত্তীর্ণ | ১৪,৪২১ |
| শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান | ২ |
সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ
প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীর প্রতি মনোযোগ আরো জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন ছিল।
এ ধরনের ফলাফল স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাবিভাগ ও শিক্ষানীতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে—বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয় বা যেখানে পর্যাপ্ত সম্পদ-সহায়তা নেই। স্থানীয় রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও জেলাশাসক ও শিক্ষা অফিসের পর্যবেক্ষণ, বিদ্যালয়-পরিচালনার সহায়তা এবং অভিভাবক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি ধাপ বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।
খুলনার শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মান ও শিক্ষার্থীর সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে তাত্ত্বিক ও অনুশীলনভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন—যাতে ভবিষ্যতে এমন নৈরাশ্যমূলক ফলকম পুনরাবৃত্তি না ঘটে।