দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি করা হয়েছে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সম্পদের অসংগতিপূর্ণতা এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে।
কোন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এ মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, এস এম মাহাবুবুর রহমান তাঁর সম্পদ বিবরণীতে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন যা দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণযোগ্য নয় ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলাটি দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারাসমূহ ২৬(২) ও ২৭(১) অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে।
দাবি ও দুদকের অনুসন্ধানের ফল
আটক বা বিনা বিবরণে অভিযোগভুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাখিলকৃত ও দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের মূল পার্থক্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো।
| বিবরণ | ঘোষিত (দাখিলকৃত) | দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া |
|---|---|---|
| স্থাবর সম্পদ | ৭৬,৭৭,২০০ টাকা | ২,২৯,২২,২৮৮ টাকা |
| অস্থাবর (চলতি) সম্পদ | ১,৭১,৮৭,৭৫১ টাকা | ১,৯১,১৪,৪০৮ টাকা |
| মোট সম্পদ | ২,৪৮,৬৪,৯৫১ টাকা | ৪,২০,৩৬,৬৯৬ টাকা |
এজাহারে দুদক আরও উল্লেখ করেছে যে, অভিযুক্তের দুইটি ব্যাংক শাখায় মোট দায় রয়েছে ১৪,৯৬,৭৪১ টাকা (ব্র্যাক ব্যাংক, খুলনা বড় বাজার শাখা এবং সোনালী ব্যাংক, স্যার ইকবাল রোড শাখা)। দায় বাদে তার নিট সম্পদ হিসেবে দুদক নিরূপণ করেছে ৪,০৫,৩৯,৯৫৫ টাকা।
“জ্ঞানআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ”
দুদকের নিরূপণ ও আইনগত ব্যবস্থা
দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে অভিযুক্তের গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাব ২,৩১,৬০,৪১৩ টাকা পাওয়া গেছে। এ সময় পারিবারিক ব্যয়ের হিসেবে ধরা হয়েছে ৭৭,৯৩,৬৫৮ টাকা। আয়-ব্যয় বিবেচনায় দুদকের হিসাব অনুযায়ী অভিযুক্তের নিরাপদভাবে সংগ্রহ্য সঞ্চয় বা নিট আয় দাঁড়ায় ১,৫৩,৬৬,৭৫৫ টাকা। এরপরও তাঁর সম্পদে একেবারে মিল না থাকার ফলে দুদক রিপোর্টে মোট ২,৫১,৭৩,২০০ টাকার অসংগতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসবের পাশাপাশি সম্পদ বিবরণীতে অনাবৃত আরও কিছু সম্পদের তথ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী ৩০,৫৬,৫৬৩ টাকার স্থাবর ও ১৯,২৬,৫৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ দাখিল করা হয়নি; এগুলোর মোট মূল্য ৪৯,৮৩,১২০ টাকা। এ বিষয়ে আইনের ২৬(২) ধারায় আলাদা একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক পরিণাম
খেয়াল রাখতে হবে—এস এম মাহাবুবুর রহমানকে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। দায়েরকৃত মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হলে তার ওপর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তদন্তের ফল অনুযায়ী তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুদক কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের মামলা স্থানীয় নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সামগ্রিকভাবে সরকারি সম্পদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভূমিকা রাখে।
- মামলা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল।
- কর্তৃপক্ষ অভিযোগে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার অসংগতি দেখেছে।
- অভিযুক্ত বর্তমানে নেত্রকোনায় কর্মরত হলেও মামলা খুলনার কার্যালয় থেকে দায়ের করা হয়েছে।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। মামলার বিস্তারিত তদন্ত ও আদালত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভবিষ্যতে পাওয়া তথ্য অনুসারে পরবর্তীতে প্রতিবেদন পরিবর্ধন করা হবে।