খুলনা শহরে ঢোকার নরমেদা হিসেবে পরিচিত কয়েকটি প্রধান রাস্তার এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে সেগুলোকে স্থানীয়রা প্রবেশপথে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে অভিহিত করছেন। দীর্ঘদিন বেহাল থাকা রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক, সোনাডাঙ্গা বাইপাস ও উত্তর দিকের আড়ংঘাটা—দৌলতপুর রুটগুলোতে পিচ উঠে বড় গর্ত, খানাখন্দ ও বর্ষার পানির জমে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচলে তীব্র সমস্যা তৈরি হয়েছে।
দূরব নিম্নমান ও নির্মাণপ্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) কর্তৃক ২০১৩ সালে শুরু হওয়া রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়কের প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে ১৩ বছরেও সমাপ্ত হয়নি। প্রকল্পটি শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা; পরে দীর্ঘসূত্রিতায় ২০২০ সালে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে পুনঃঅনুমোদন করা হয় ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।
সরাসরি সড়কচলায়তনে এর প্রভাব পড়ছে—রূপসা নদীর জোয়ার ও বর্ষার পানি সড়ক তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ফলে অটোমোবাইল চলাচল অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একাংশ চালক এখন ৪ কিলোমিটার বেহাল পথ এড়াতে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে শহরে প্রবেশ করছেন। গল্লামারী স্টিল আর্চ সেতু নির্মাণেও ধীরগতি রয়েছে; বর্তমানে সেতুটি বহিরাগতভাবে দুইটি অংশের মধ্যে একটি দৃশ্যমান হলেও অপরটি নির্মাণে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন—ভোগান্তি ও জবাবদিহি অনিশ্চিত
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা সাংবাদিকদের বলেন—
“নির্মাণকাজের ধীরগতিতে ভোগান্তি বাড়ে। শিপইয়ার্ড সড়ক ও সোনাডাঙ্গা বাইপাসে বছরের পর বছর যাতায়াতে ভোগান্তি থাকলেও কোনো জবাবদিহি নেই। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজ শেষ করতে বাধ্য করা যায়নি।”
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পুরোপুরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা এক বক্তব্যে বলেন—
“শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নতুন নির্দেশনা ও বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।”
- সমস্যার প্রকৃতি: পিচ উঠে বড় গর্ত, খানাখন্দ, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, সেতু নির্মাণে ধীরগতি।
- দূষিত রুটসমূহ: রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক, সোনাডাঙ্গা বাইপাস, আড়ংঘাটা থেকে দৌলতপুর مسیر।
- নগদ ও সময়ের ব্যয়: স্থানীয়রা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন; যাতায়াতে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি
প্রকল্প সংক্রান্ত সরকারি নথি অনুযায়ী, সড়কটির মূল অনুমোদনী ব্যয় ও পরে পুনঃঅনুমোদিত টাকার তথ্য নির্দেশ করে যে প্রকল্পটি নানা পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও সময়ানুভূতির সমস্যায় পড়েছে। কেডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনিয়মের তদন্ত চলছে এবং নতুন নির্দেশনা ও বরাদ্দ পেলে কাজ পুনরায় শুরু করা হবে—তবে তদন্ত-প্রক্রিয়া ও নতুন বরাদ্দ কী সময়ে মিলবে তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি।
এ পরিস্থিতিতে খুলনা শহরের প্রবেশপথগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বেহালত্ব শুধু যানজট ও দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং জরুরি সেবা, ব্যবসা ও ভ্রমণিক জীবনেও তা প্রভাব ফেলছে। নগর প্রশাসন, কেডিএ ও কেন্দ্রীয় কৌশলগত সিদ্ধান্তের তৎপর উদ্যোগ ছাড়া এই দুর্ভোগ দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব নয়—তবে বর্তমান তথ্য অনুসারে তদন্ত ও বরাদ্দের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধিই প্রকল্প পুনরায় বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।
খুলনা বাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এখন শুধু একটি প্রত্যাশা রয়ে গেছে—সরকারি তদন্তের ফল ও নতুন বরাদ্দ দ্রুত নিশ্চিত করে নির্মাণকাজ পুনরায় ত্বরান্বিত করা হোক, যাতে শহরে প্রবেশপথের দীর্ঘদিনের দুঃখ ও নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়।