রাজনীতি খুলনা খুলনা (59)

খুলনা: ১৩ বছরেও রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক সংস্কার শেষ হয়নি, প্রবেশপথে ভোগান্তি বাড়ছে

রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক ও সোনাডাঙ্গা বাইপাসসহ খুলনার প্রধান চার প্রবেশদ্বার দীর্ঘ সময় ধরে বেহাল। পিচ উঠে বড় গর্ত, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও নির্মাণকাজে ধীরগতি–শহরের প্রবেশপথগুলোতে মানুষ ও পরিবহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কেডিএ-র প্রকল্প দীর্ঘসূত্রিতা ও ঠিকাদারের কাজ না শেষ করার দায়ে জেলার সড়ক-যাত্রাব্যবস্থায় প্রতিদিনই বর্ধিত ব্যাঘাত দেখা দিচ্ছে।

খুলনা: ১৩ বছরেও রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক সংস্কার শেষ হয়নি, প্রবেশপথে ভোগান্তি বাড়ছে
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

খুলনা শহরে ঢোকার নরমেদা হিসেবে পরিচিত কয়েকটি প্রধান রাস্তার এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে সেগুলোকে স্থানীয়রা প্রবেশপথে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে অভিহিত করছেন। দীর্ঘদিন বেহাল থাকা রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক, সোনাডাঙ্গা বাইপাস ও উত্তর দিকের আড়ংঘাটা—দৌলতপুর রুটগুলোতে পিচ উঠে বড় গর্ত, খানাখন্দ ও বর্ষার পানির জমে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচলে তীব্র সমস্যা তৈরি হয়েছে।

দূরব নিম্নমান ও নির্মাণপ্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) কর্তৃক ২০১৩ সালে শুরু হওয়া রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়কের প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে ১৩ বছরেও সমাপ্ত হয়নি। প্রকল্পটি শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা; পরে দীর্ঘসূত্রিতায় ২০২০ সালে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে পুনঃঅনুমোদন করা হয় ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

সরাসরি সড়কচলায়তনে এর প্রভাব পড়ছে—রূপসা নদীর জোয়ার ও বর্ষার পানি সড়ক তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ফলে অটোমোবাইল চলাচল অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একাংশ চালক এখন ৪ কিলোমিটার বেহাল পথ এড়াতে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে শহরে প্রবেশ করছেন। গল্লামারী স্টিল আর্চ সেতু নির্মাণেও ধীরগতি রয়েছে; বর্তমানে সেতুটি বহিরাগতভাবে দুইটি অংশের মধ্যে একটি দৃশ্যমান হলেও অপরটি নির্মাণে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন—ভোগান্তি ও জবাবদিহি অনিশ্চিত

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা সাংবাদিকদের বলেন—

“নির্মাণকাজের ধীরগতিতে ভোগান্তি বাড়ে। শিপইয়ার্ড সড়ক ও সোনাডাঙ্গা বাইপাসে বছরের পর বছর যাতায়াতে ভোগান্তি থাকলেও কোনো জবাবদিহি নেই। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজ শেষ করতে বাধ্য করা যায়নি।”

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পুরোপুরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা এক বক্তব্যে বলেন—

“শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নতুন নির্দেশনা ও বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।”
  • সমস্যার প্রকৃতি: পিচ উঠে বড় গর্ত, খানাখন্দ, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, সেতু নির্মাণে ধীরগতি।
  • দূষিত রুটসমূহ: রূপসা-শিপইয়ার্ড সড়ক, সোনাডাঙ্গা বাইপাস, আড়ংঘাটা থেকে দৌলতপুর مسیر।
  • নগদ ও সময়ের ব্যয়: স্থানীয়রা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন; যাতায়াতে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি

প্রকল্প সংক্রান্ত সরকারি নথি অনুযায়ী, সড়কটির মূল অনুমোদনী ব্যয় ও পরে পুনঃঅনুমোদিত টাকার তথ্য নির্দেশ করে যে প্রকল্পটি নানা পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও সময়ানুভূতির সমস্যায় পড়েছে। কেডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনিয়মের তদন্ত চলছে এবং নতুন নির্দেশনা ও বরাদ্দ পেলে কাজ পুনরায় শুরু করা হবে—তবে তদন্ত-প্রক্রিয়া ও নতুন বরাদ্দ কী সময়ে মিলবে তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি।

এ পরিস্থিতিতে খুলনা শহরের প্রবেশপথগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বেহালত্ব শুধু যানজট ও দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং জরুরি সেবা, ব্যবসা ও ভ্রমণিক জীবনেও তা প্রভাব ফেলছে। নগর প্রশাসন, কেডিএ ও কেন্দ্রীয় কৌশলগত সিদ্ধান্তের তৎপর উদ্যোগ ছাড়া এই দুর্ভোগ দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব নয়—তবে বর্তমান তথ্য অনুসারে তদন্ত ও বরাদ্দের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধিই প্রকল্প পুনরায় বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

খুলনা বাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এখন শুধু একটি প্রত্যাশা রয়ে গেছে—সরকারি তদন্তের ফল ও নতুন বরাদ্দ দ্রুত নিশ্চিত করে নির্মাণকাজ পুনরায় ত্বরান্বিত করা হোক, যাতে শহরে প্রবেশপথের দীর্ঘদিনের দুঃখ ও নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

59খুলনা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো খুলনা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব