ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে দুইজনের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বলে নিশ্চিত করেছে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ঘটে।
কালিগঞ্জে শোক, পরিবারের দাবি
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে—এস এম আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু (৪৫)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। আরেকজনের নাম রেবতী সরকার, তিনি একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের।
নিহতের নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু সংবাদ মাধ্যমে জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু ছিলেন সবথেকে ছোট। পল্টু আরও বলেন সাজু কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা করাতে প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারত গিয়েছিলেন। তিনি চিকিৎসার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন; বুধবার রাতে বাড়িতে মারা যাওয়ার খবর পৌঁছালে পরিবার তৎক্ষণাৎ শোকগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও প্রাথমিক তথ্য
পূর্ববর্তী জানানো মতে, ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন লেগে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে আগে থেকে আটকা পড়ে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে একাধিক ব্যর্থ প্রয়াসে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দু’জন নারী ও একজন শিশু রয়েছেন।
সূত্রে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনও রয়েছেন—সেহেতু ঘটনাটির প্রভাব সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের অভিভাবক ও স্থানীয় কমিউনিটিতে এসে পৌঁছেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন তারা নিহত সাজু ও রেবতী সরকারের মৃত্যুর খবর শুনেছেন এবং বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখাও কলকাতার ঘটনার সঙ্গে সাতক্ষীরার নিহতদের সংযোগ খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া
পরিবার ও স্থানীয় সমাজে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত সাজুর মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া, কাগজপত্র ও সুরাহা-সহ ক্ষতিপূরণ বা সহযোগিতা প্রশ্নগুলি এখন বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত এবং তারা প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছে।
- ঘটনা স্থিতি: মির্জা গালিব স্ট্রিট, নিউ মার্কেট সংলগ্ন, কলকাতা।
- সময়: ১৮ আগস্ট, রাত প্রায় পৌনে ২টা (দিবাগত)।
- মোট নিহত: ৯ জন (ছয় পুরুষ, দু’জন নারী, এক শিশু)।
কোন প্রসঙ্গে স্থানীয়দের জন্য তথ্য জরুরি?
এ ধরনের আন্তর্জাতিক ঘটনায় কয়েকটি বিষয় দ্রুত পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন—মৃত্যুর কারণ ও পরিচয়পত্র-নির্ভুলতা, মরদেহ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া, কাগজপত্র ও কন্সুলার সহায়তা, এবং বাংলাদেশের পরিবারের প্রতি প্রদত্ত কোন ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা। স্থানীয় পরিবারগুলো এখন এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চান।
| নাম | স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| এস এম আলিমুজ্জামান (সাজু), ৪৫ | তারালী ইউনিয়ন, বরেয়া গ্রাম, কালিগঞ্জ | ঘের ব্যবসায়ী; চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন |
| রেবতী সরকার | তেঁতুলিয়া গ্রাম, কালিগঞ্জ | কী জন্য ভারত গিয়েছিলেন তথ্য পাওয়া যায়নি |
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য ও নিহতদের পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনাটির সম্পূর্ণতা যাচাই ও নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশাসন ও কুটনৈতিক সূত্র থেকে বিস্তারিত পাওয়া গেলে তা পাঠককে জানানো হবে।
এই ঘটনার কারণে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন, নিকটাত্মীয় এবং কোলাকাতায় কর্মরত আমাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঘটনার পরবর্তী স্তর, আইনি ও কাগজপত্র সংক্রান্ত সহায়তা—সব বিষয়ে খোঁজখবর চালানো হবে।