ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামা পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (মানিক) নিখোঁজ রয়েছেন। জাহাজডুবির পরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি, ফলে স্বজনরা উদ্বিগ্ন ও অপেক্ষানিরত।
পরিবারের তথ্য ও শেষ যোগাযোগ
বছরের শুরুতে বিদেশি জাহাজে যোগ দিয়ে সমুদ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন মামুন। পরিবার জানিয়েছে, গত বুধবার তিনি শেষবার অনলাইনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন; এরপর থেকে কোনো সাড়া নেই। জাহাজ সিঙ্গাপুরগামী হয়ে লৌহ আকরিক পরিবহনের সময় সমুদ্রবিপর্যয়ের শিকার হয়।
"আমরা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি; কিন্তু এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাইনি। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হোক এবং দ্রুত আমাদের ভাইয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানানো হোক।"
উদ্ধার কার্যক্রম ও জানা তথ্য
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে মোট ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে:
- চীনের নাগরিক — ২০ জন
- মিয়ানমারের নাগরিক — ৩ জন
- বাংলাদেশি — ১ জন (মো. আবদুল্লাহ আল মামুন)
জাহাজটির সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায় ২২ আগস্ট। তারপর থেকে ভারতীয় কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একটি লাইফ র্যাফট থেকে দুই যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি ব্যক্তিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। জাহাজটি প্রায় ৭২,১০০ মেট্রিক টন লৌহ আকরিক বোঝাই হয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করছিল।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জাহাজ | এমভি ওশান উইনার |
| ঘটনার দিন | ২২ আগস্ট (যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিন) |
| ক্রু সংখ্যা | ২৪ জন |
| উদ্ধারউপর্যন্ত উদ্ধার হওয়া | ২ জন জীবিত |
সাতক্ষীরায় পারিবারিক পরিস্থিতি
মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গণমুখী মাঠসংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। অভিযানে দ্রুত কোন ফল না পাওয়ায় মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জানানো হয়েছে, মামুন গত এপ্রিলের শেষ ভাগে জাহাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রায় চার মাস ধরে সমুদ্রে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অনুরোধ
নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন মামুনের বন্ধু ও আত্মীয়রা। তারা আশা করেন, ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাবে। পরিবার প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে যাতে দ্রুত সঠিক তথ্য জানা যায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা করা যায়।
এ পরিস্থিতির কুঞ্জি বিষয়
- জাহাজের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তারিখ: ২২ আগস্ট
- জাহাজে মোট ক্রু: ২৪
- এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার: ২ জন
- নিখোঁজের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি: মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
এই ঘটনা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকার অনেক পরিবারকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা কনসোর্টিয়ামের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সংবাদমাধ্যমে এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও উদ্ধারকার্য যতক্ষণ না শেষ হয়, পরিবারের প্রত্যাশা—আশা ও উদ্বেগ মিলেমিশে থাকবে।
আমরা চেষ্টা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য সংগ্রহ করে আপডেট দেব।