ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি ত্রাণ-সামগ্রী বড় পরিমাণে জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে চাল, তেল, লবণ, চিনি, ডালসহ বিভিন্ন শুকনা খাবারের প্যাকেট রয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা-রাতের দিকে সংগঠিত অভিযান থেকে প্রকাশ্যে এসেছে।
কোথা থেকে জব্দ ও কার সঙ্গে যুক্ত
প্রশাসনিক পর্যায় থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে বলা হয়েছে, ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের পূর্ববর্তী অফিস সহকারী আবদুল বাকের হোসেন (৪৫)। তিনি গত বছরের ১০ জুলাই ফুলগাজীতে যোগদান করেন এবং গত ২২ জুলাই বদলি হয়ে সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) যাওয়ার পরও ফুলগাজীর বাসা বজায় রেখেছিলেন।
উপজেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১০ বস্তা ত্রাণসামগ্রী ও ৩ বস্তা শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত প্যাকেটগুলোর গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল — “২০২৪-২৫ অর্থবছর”, যা ওই ত্রাণপ্যাকেটগুলো সরকারি বরাদ্দ ছিল বলে ইঙ্গিত দেয়।
জব্দকৃত মালামালের বিবরণ
তল্লাশির সময় পাওয়া পণ্যের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- চাল: ৩০০ কেজি
- সয়াবিন তেল: ৩২ লিটার
- লবণ: ৩০ কেজি
- চিনি: ৩০ কেজি
- মসুর ডাল: ৩৩ কেজি
- হলুদ গুঁড়া: ৩০ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ২০০ গ্রাম)
- মরিচ গুঁড়া: ৩২ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম)
- ধনিয়া গুঁড়া: ৩১ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম)
| আইটেম | পরিমাণ |
|---|---|
| চাল | ৩০০ কেজি |
| সয়াবিন তেল | ৩২ লিটার |
| লবণ | ৩০ কেজি |
| চিনি | ৩০ কেজি |
| মসুর ডাল | ৩৩ কেজি |
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টদের বিবরণ
ফুলগাজী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন অভিযান করে এসব মালামাল জব্দ করে। থানা পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত মালামাল বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ. দা.) রাজীব আহমেদ জানিয়েছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ফুলগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, জব্দ মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেছেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি ত্রাণ-সামগ্রী কীভাবে এক কর্মচারীর ভাড়াবাসায় পৌঁছালো এবং বরাদ্দকৃত পদার্থ বিতরণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ধারণা করছেন, ২০২৫ সালে ফুলগাজীতে সম্ভাব্য বন্যা বা দুর্যোগজনিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত জিনিসপত্র হতে পারে এই মালামালগুলো।
- সরকারি ত্রাণের ট্র্যাকিং ও ভোক্তা-সচেতনতায় ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত ঠিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও দুর্যোগপ্রবণ মানুষদের সেবা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
পরবর্তী করণীয়
প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ মামলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ। জব্দকৃত মালামাল কোথায় বরাদ্দ করা হয়েছিল তা নিরুপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাই পরবর্তী প্রাধান্য হওয়ার কথা।
এ ঘটনায় দায়বদ্ধতার স্তর যাচাই, বিতরণে অনিয়ম ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে ত্রাণশৃঙ্খলা কেমন করা হবে—এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পরবর্তী ফাঁসে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।