সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের জনপদ ও পরিচিত ব্যবসায়ী কালাম সরদার (৬০) নিখোঁজের পর সোমবার দুপুরে একই গ্রামের একটি বাড়ির পেছন থেকে কাদামাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্ধ্যা নয়, বিষয়টি স্থানীয়রা প্রথম সংবাদসংস্থার কাছে নিশ্চিত করেছেন এবং থানাও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়া কালাম সরদার আর রাতে ফিরেননি। রোববার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খুঁজে পাননি। সোমবার সকালে স্থানীয়দের পরামর্শে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকালে প্রতিবেশী এক নারীর নজরে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের আগরদাঁড়ি গ্রামের বড় ভাই নূর ইসলামের বাড়ির পেছনে কাদামাখা এক লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দিলে আশাশুনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পিছনের বিবাদকে হত্যার কারণ হিসেবে পরিবার সন্দেহ করছে
পরিবার ও গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, কালাম সরদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ফল কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। তিনি ওই জমির পৈতৃক মালিক বলে দাবি করেন। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানান, বড় চাচা নূর ইসলাম একই জমির বিরুদ্ধভাবে দাবি করে ২০২৪ সালে স্থানীয় আদালতে মামলা করেছিলেন এবং তারপর থেকে দখলের চেষ্টা ও বিরোধ চলছিল।
“জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বাবাকে হত্যা করা হতে পারে,”
পরিবারের সদস্যরা এই সংশয় ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, জমির হাল রেকর্ড ও নামপত্র তাদের পিতার নামে আছে। তবে মামলা হওয়ার পর বিরোধ চরমে উঠেছিল। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
পুলিশের বক্তব্য
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন,
“ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক রহস্য জানা যাবে।”
ওসি ময়নাতদন্তের ফল ছাড়া ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। পুলিশ মরদেহের ঘাড় ও মাঝায় চামড়া ছেলার ঘটনা দেখে ঘটনার তত্ত্ব অনুসন্ধান করছে এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও সাইট ভিজিট চালাবে বলে জানিয়েছেন।
- নিহত: কালাম সরদার, বয়স ৬০
- স্থান: আগরদাঁড়ি গ্রাম, কুল্যা ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলা, সাতক্ষীরা
- ময়নাতদন্তস্থল: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিখোঁজ হওয়ার সময় | শনিবার রাত সাড়ে ৮টা (পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী) |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | সোমবার দুপুর (১০ আগস্ট) |
| ময়নাতদন্তের জন্য স্থান | সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গ |
স্থানীয়রা বলছেন, বড় চাচার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি-দাবি ও মামলা ছিল এবং মামলার পর থেকেই জমি দখলের চেষ্টা ও বিবাদ চলছিল। ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিতকরণে ময়নাতদন্ত ছাড়াও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত এগোবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আশাশুনি ও সাতক্ষীরা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।