বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘ দৈর্ব্য: আদালত বন্ধ, মামলার চাপ বাড়লো
সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রায় এক বছর ধরে বিচারকশূন্য থাকার কারণে বিচারের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা আইনজীবী সমিতি, মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, একমাত্র এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে আনুমানিক ৫ হাজার মামলা। দীর্ঘদিন বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে এবং বিচারপ্রার্থীরা পড়েছেন নানা ধরনের দুর্ভোগে।
আইনজীবী সমিতির অনুরোধ
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নুরুল আমিন গত ২৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের জন্য অনুরোধ করেছেন। আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা না গেলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
- সমস্যার মর্মবন্ধন: একটাই ট্রাইব্যুনাল এবং দীর্ঘকাল বিচারক না থাকায় মামলা অনাশ্চিত অবস্থায় পড়ে আছে।
- জটের পরিমাণ: আবেদনপত্রে উল্লেখিত হিসেবে বিচারাধীন মামলা সংখ্যার কাছাকাছি মান ৫ হাজার।
- প্রক্রিয়া অবস্থা: আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ/প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে বিবেচিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও আইনজীবীদের ক্ষোভ ও হতাশা
অভিযোগ রয়েছে, বিচারকার্য বন্ধ থাকায় বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায় থেকে ন্যায়বিচার পাওয়া পিছিয়ে পড়ছে। বাদী ও ভুক্তভোগী নারী ও শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত আদালতে এসে বিচারপ্রগতি না পেয়ে মানসিক ও আর্থিক দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফলে তাদের জীবনে পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ব্যাপারগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
“নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক বিষয়। দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তি ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্য,”
কোন ধাপে রয়েছে পদায়ন প্রক্রিয়া?
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালটির জন্য একজন বিচারক পদায়নের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ বা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সূত্র বলছে, বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য বিবেচনায় আছে। তবে স্থানীয় আইনজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো দ্রুত পদক্ষেপ না হলে সমস্যার স্থায়ী অভাব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছে।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| আদালতের অবস্থা | বিচারকশূন্য, প্রায় এক বছর |
| বিচারাধীন মামলা | প্রায় ৫ হাজার |
| স্থানীয় দাবি | দ্রুত একজন বিচারক পদায়ন |
| প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা | আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ পাঠানো; হাইকোর্ট বিভাগে বিবেচনা চলছে |
সামাজিক প্রভাব ও প্রত্যাশা
ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘসময় বিচারকবিহীন থাকায় শুধু মামলার সংখ্যা বেড়েই না, বরং ন্যায়বিচার ও দ্রুততা হারায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন—এমন বিষয়গুলোতে ট্রাইব্যুনালের সক্রিয়তা জীবন-মরণ হারে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনগুলো আশা করেন, দ্রুত পদক্ষেপ হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারবে এবং মামলার জট দ্রুত নিরসন হবে।
সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী দ্রুত একজন যোগ্য ও স্থায়ী বিচারক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আদালত কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ন্যায়বিচার দ্রুত না বললেও উপযুক্ত গতিতে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।