অপরাধ সাতক্ষীরা সাতক্ষীরা (64)

সাতক্ষীরায় অসুস্থ গরু বাজারে বিক্রির চেষ্টা, পাঁচজন গ্রেপ্তার ও যানবাহন জব্দ

খুলনা ও যশোর সীমান্ত থেকে আনা মারাত্মক অসুস্থ গরু বিক্রির চেষ্টা করায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় রাতের অভিযান—পাঁচজন আটক, একটি বোলেরো পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল ও মৃত গরুটি জব্দ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের পরীক্ষায় গরুটি মারা গেছে বলে নির্দেশ। পুলিশ মামলা করেছে।

সাতক্ষীরায় অসুস্থ গরু বাজারে বিক্রির চেষ্টা, পাঁচজন গ্রেপ্তার ও যানবাহন জব্দ
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় মারাত্মক অসুস্থ বা বিক্রি-অনুপযোগী গরু বাজারে বিক্রির যে চক্রটি চালাচ্ছিল, সেজন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে ব্যবহার করা একটি বোলেরো পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল এবং পরবর্তীতে মারা যাওয়া ওই গরুটি জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিবরণ ও আটককৃতদের পরিচয়

স্থানীয় পুলিশ ও এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় রাত প্রায় ৪টার দিকে লাবসা ইউনিয়নের মাধরা চৌরাস্তায় অভিযানটি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ও এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, খুলনা ও যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অসুস্থ ও কসাইখানায় জবাইয়ের অযোগ্য গরু কম দামে কিনে এনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করত একটি চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছে বোলেরো থেকে গরু নামানোর সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে।

আটক ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ (পুলিশ ও এজাহার সূত্রে):

নাম বয়স ঠিকানা / পরিচিতি
আবুল বাশার কারিগর ৩০ সাতক্ষীরার শিবতলা এলাকা
তৈয়েবুর রহমান ১৯
মো. শাহিন ইসলাম ২০
মো. ইব্রাহীম শেখ ২৫ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা
রাব্বি হোসেন আকাশ ২৫

জব্দকৃত বস্তু ও পশু স্মারক

  • বোলেরো চার চাকার পিকআপ—রেজিস্ট্রেশন: খুলনা-ন-১১-১৭৬১ (থানার হেফাজতে)
  • একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল—রেজিস্ট্রেশন: সাতক্ষীরা-ল-১১-৭৯৪০ (জব্দ)
  • একটি মারাত্মক অসুস্থ গরু—পরবর্তীতে মারা যায়, পশুপালন দপ্তরের পরীক্ষার পর রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে

পুলিশ ও উপজেলার পশুপালন ব্যবস্থার কর্মকর্তা ঘটনার পর ঘটনাস্থলে এসে ওই গরুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন জানান, গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার কারণে পরবর্তীতে মারা গেছে।

আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত

ঘটনায় আলহাজ এম সোহেল আহমেদ মানিক নামে একজন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই চক্রের আরেক সদস্য—যশোর জেলার কেশবপুর থানার মঙ্গলকোট গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম (৩৫)—এখনো পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযানের ঘটনার আরও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দকৃত যানবাহন ও অন্যান্য আলামত বিক্রয় চক্রের নেটওয়ার্ক বের করতে কাজে লাগানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রভাব ও সতর্কবার্তা

পুলিশি সূত্র এবং প্রাণিসম্পদ দফতর মনে করিয়ে দিয়েছে যে অসুস্থ এবং জবাই উপযোগী নয় এমন পশু বাজারে বিক্রি করলে স্থানীয় ভোক্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তারপরও তারা নির্দিষ্ট রোগ বা বেক্সার মতো সংক্রামক রোগের নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেননি; ফলে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেছেন, বাজারে পশু কেনা-কাটা করার সময় প্রাণিসম্পদ দল বা কর্তৃপক্ষের কাছে লোকাল ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট চাইতেই হবে এবং সন্দেহভাজন পরিস্থিতিতে থানা বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জানানোর পরামর্শ দেন।

পরবর্তী প্রক্রিয়া

পুলিশ জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে প্রয়োজনে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চক্রটি কতটা বিস্তৃত তা নির্ণয় করবেন। তদন্তে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

64সাতক্ষীরা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো সাতক্ষীরা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব