চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল আনারকলি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে স্থানীয় কৃষকেরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। ক্ষুদ্র সময়ে গাছে ফুল ও ঝুলতে থাকা কাঁচা‑পাকা ফল দেখে আশাবাদী কৃষকরা বলছেন, পরামর্শ ও নিয়মমাফিক পরিচর্যা করলে আনারকলি চষে ভালো আয় করা যায়।
প্রবর্তনা ও চারা বন্দোবস্ত
জীবননগরের কয়েকজন উদ্ভাবনী কৃষক ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিও দেখে আনারকলির প্রতি আগ্রহী হন। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে জমি প্রস্তুত করে রোপণ শুরু করেন। গাছ লাগানোর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ফুল ও ফল দেখা দিতে শুরু করে, এখন মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাকা আনারকলি।
প্রচলিত চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যা
চাষিরা জানিয়েছেন, ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে ও পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তারে মাচা তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও নিয়মমাফিক পরিচর্যা ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ গ্রহণ করায় প্রথম বছরেই সন্তোষজনক ফলন মিলেছে।
“সঠিক পরামর্শ আর নিয়মতান্ত্রিক পরিচর্যা করা গেলে আনারকলি চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগ। প্রথম বছরই গাছে যে পরিমাণ ফল এসেছে, তাতে বেশ আশাবাদী।”
এ উক্তিটি জীবননগরের সফল চাষি ইউসুফ আলী থেকে নেওয়া।
খরচ‑উপার্জন ও বাজারজাতকরণ
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিরা জানায়, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি আনারকলির চারা রোপণ করা যায়। চারা রোপণ, মাচা তৈরি ও পরিচর্যার মোট খরচ একটি বিঘায় প্রায় ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত ফল পাওয়া যেতে পারে এবং বর্তমান বাজারে তার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
| বিষয় | পরিমাণ/খরচ |
|---|---|
| চারা সংখ্যা (প্রতি বিঘা) | ১২০–১৩০ |
| মোট খরচ (প্রতি বিঘা) | প্রায় ১ লাখ টাকা |
| সম্ভাব্য ফলন (প্রতি মৌসুমি) | প্রায় ৩০ মণ |
| বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য | প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা |
বিস্তৃতি ও বাজারের চিত্র
আভিজ্ঞ চাষিরা জানাচ্ছেন, আগস্টের শুরু থেকে পাকা ফল উঠানো শুরু হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব ফল পাঠানো হচ্ছে। জীবাণনগরের উর্বর মাটি ও উপযোগী আবহাওয়া এই বিদেশি ফলটির জন্য অনুকূল হওয়ায় দ্রুত চাষ সম্প্রসারণ পেয়েছে। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আনারকলি চাষ চলছে।
কৃষি বিভাগের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগনের মাটি যেকোনো ধরনের ফলের চাষের জন্য উপযুক্ত। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম বছরে পরীক্ষামূলকভাবে ভালো ফলন পাওয়া যাওয়ায় আগামী মৌসুমে আনারকলি চাষের পরিধি বহুগুণ বাড়ার আশা করছেন তারা।
চাষিদের কথা ও ঝুঁকি
চাষিরা অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় উৎসাহিত হলেও বেশ কয়েকটি বিষয় সতর্কতার দাবি রাখে—উদাহরণত সঠিক পরিচর্যা, পচন রোধের ব্যবস্থা, বাজারজাতকরণের সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও পরিবহন। এখনই কিছু কৃষক বাঁশ ও তার মাচা ব্যবহারের মাধ্যমে ফল রক্ষা করছেন, তবে মৌসুম বাড়লে আরও সংগঠিত বিপণন ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে।
- চারা সংখ্যা: প্রতি বিঘায় ১২০–১৩০টি।
- প্রাথমিক খরচ: প্রায় ১ লাখ টাকা প্রতি বিঘা।
- সম্ভাব্য আয়: প্রতি বিঘায় আনুমানিক ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা (মৌসুমি)।
জীবননগরের নতুন এই চাষপ্রবণতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে আশা জাগাচ্ছে। তবে এটা স্থায়ী ও লাভজনক রাখতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ, সংগঠিত বাজার ব্যবস্থা ও সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার অনিবার্য হবে—এটাই চাষিদের অল্প‑দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম চাবিকাঠি।