জয়পুরহাটে রবিদাস সম্প্রদায়ের কর্মজীবীদের জীবনযাত্রা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১১৬ জন সুফলভোগীর মাঝে টুলবক্স, ছাতা ও জুতা পরিষ্কার- মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জেলা পরিষদের খঞ্জনপুরস্থ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। উদ্বোধনী সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ও সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কাজের সরঞ্জাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিবেশী শহর ও গ্রাম থেকে অনেকে রাস্তায় বসে জুতা পরিষ্কার বা মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পুরোনো ও খোলা-খুলা সরঞ্জাম বহন করা, রোদ-বৃষ্টি ও আবহাওয়ার কারণে কাজের পরিবেশ সংকুচিত হওয়া— এসবই তাদের আয় ও কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করে। জেলা পরিষদের দেওয়া নতুন টুলবক্স এবং ছাতা এই সমস্যাগুলো মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে উপকারভোগীরা জানিয়েছেন।
“বর্ষা আর কড়া রোদের মধ্যে রাস্তায় বসে কাজ করতে খুব কষ্ট হতো। আজ ছাতা ও নতুন টুলবক্স পেয়ে আমাদের কাজের সুবিধা হলো। এতে আমরা পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারব।”
এমনটাই জানান জয়পুরহাট পৌর এলাকার শিল্পা রবিদাস। অন্য একজন উপকারভোগী মন্টু রবিদাস বলেন, “পুরনো বাক্সে সরঞ্জাম রাখা ও বহন করা কঠিন ছিল। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় নতুন সামগ্রী পেয়ে আমাদের কাজের গতি বাড়বে।”
উদ্বেগ-আশা ও প্রত্যাশা
উপকারভোগীরা সৎ পরিশ্রমী হলেও তাদের যেসব দৈনন্দিন সমস্যার কারণে কাজ বিঘ্নিত হতো, সেগুলো কিছুটা লাঘব হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। সিপাহি মালের মতো ছোট সরঞ্জামের সুনির্দিষ্ট বণ্টন তাদের কাজ সহজ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এ ধরনের সরাসরি সহায়তা আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
জেলা পরিষদের বক্তব্য
প্রধান অতিথির ভাষণে মাসুদ রানা প্রধান জানান, জেলা পরিষদ সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত পেশাজীবীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার মোহাম্মদ রায়হনও সভাপতিত্বকালে এ ধরনের সহায়তার প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রভাব ও স্থানীয় অর্থনীতি
জুতা প্রস্তুত ও মেরামত পেশা স্থানীয় শহর ও গ্রামের ভোক্তা-চাহিদার সঙ্গে উত্তালভাবে জড়িত। ছোট ব্যবসায়ে সরঞ্জাম হলে উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে এবং আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন— সরঞ্জাম পেয়ে কাজ কতটা দীর্ঘমেয়াদি বদলে যায় এবং কি ধরনের অতিরিক্ত সহায়তা দরকার হবে।
- উপকারভোগী: ১১৬ জন জুতা তৈরির ও মেরামতের পেশাজীবী
- বিতরণকৃত উপকরণ: টুলবক্স, ছাতা, জুতা পরিষ্কার ও মেরামতের আনুষঙ্গিক সামগ্রী
- উদ্যোক্তা: জয়পুরহাট জেলা পরিষদ
| আইটেম | উল্লেখ |
|---|---|
| উপকারভোগীর সংখ্যা | ১১৬ |
| বিতরণ স্থান | জেলা পরিষদ হলরুম, খঞ্জনপুর, জয়পুরহাট |
| প্রধান অতিথি | মাসুদ রানা প্রধান |
এ ধরনের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ
স্থানীয়দের কথায়, সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের বাজারে সহজ접স এবং বিক্রয় চ্যানেলের সংযোগ থাকলে উপকার আরো স্থায়ী হবে। জেলা ও স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকলেই এসব পেশাজীবীর আয়ের ধারাবাহিক উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা পরিষদ ভবিষ্যতেও এ ধরণের অনুকূল কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং রবিদাস সম্প্রদায়ের মতো ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে।