জয়পুরহাটে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেবারেই পাসের খবর নেই বলে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযিযুল হাকিম মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান। ফলাফলের এই চরম দুর্বলতা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ছড়িয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার পর্যালোচনা দাবি বাড়িয়েছে।
কোন প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত?
অকৃতকার্য বা শূন্য পাস হওয়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
- পুর এমইউ ফাজিল মাদ্রাসা (কালাই): ২১ পরীক্ষার্থী, পাস ০
- গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা (আক্কেলপুর): ১৬ পরীক্ষার্থী, পাস ০ (পরপর দুইবার শূন্য পাস)
- জয়পুরহাট আদর্শ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা: ৮ পরীক্ষার্থী, পাস ০
- কাপাসঠিকরি দাখিল মাদ্রাসা (ক্ষেতলাল): ৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ অনুপস্থিত; বাকি ৫ জন অনুত্তীর্ণ
- শিরট্টি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় (পাঁচবিবি): ৫ পরীক্ষার্থী, পাস ০
জেলা মোট ফল ও তুলনামূলক চিত্র
জেলার সার্বিক ফলাফলে চলতি বছরে মোট ১২,০৩ জন পরীক্ষার্থী নামলেও পাস করেছেন ৭,১৭৮ জন এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়েছে ৮০১ জন। এ থেকে হিসাব করা পাসের গড় শতাংশ দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮%, যা মাধ্যমিকে ৬৭.২৪%, মাদ্রাসায় ৪০.৩৫% এবং কারিগরিতে ৪৩.৫১%।
| শ্রেণি | পাসের গড় (%) |
|---|---|
| মাধ্যমিক | ৬৭.২৪ |
| মাদ্রাসা | ৪০.৩৫ |
| কারিগরি | ৪৩.৫১ |
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এই ফলাফল পরিবার-সমাজে হতাশা সৃষ্টি করেছে। একদিকে রয়েছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজে পরীক্ষার্থীদের সফলতা চোখে পড়ে — সেখানে ৫৬ জন পরীক্ষার্থী থেকে ৫৪ জন এ-প্লাস ও ২ জন এ-গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কিছু প্রতিষ্ঠান কেন বারবার পিছিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযিযুল হাকিম সাংবাদিকদের জানান যে, পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহারও বলেন, প্রতিবারের মত এবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শূন্য পাস বা অপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা চেয়ে থাকে; চিঠি এলে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্ভাব্য কারণ ও অনাবিল প্রভাব
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন যে, শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, অনিয়মিত ক্লাস, সৃজনশীল শিক্ষাদানের ঘাটতি এবং অনুকূল পরিবেশ না থাকা—এসব মিলিত কারণে পরীক্ষায় প্রস্তুতি দুর্বল হতে পারে। মাদ্রাসা ভিত্তিক ও সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য থাকলে ফলাফলের বিচ্যুতি বেড়ে যেতে পারে বলে শিক্ষাব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা তর্ক করেন।
এ ধরনের ফল কয়েক বছর ধরে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও কর্মসংস্থান প্রভাবিত হবে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুস্থতাকেও ছায়া ফেলতে পারে।
পরবর্তী করণীয়—কিছু সভ্য প্রস্তাব
- জেলা শিক্ষা অফিসের তদারকিতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক ওতপ্রোত নিরীক্ষা চালানো।
- শিক্ষকদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।
- পঠনপাঠন, অনুপস্থিতি ও শিক্ষাসামগ্রীর মান বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো।
- বাড়তি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা-কেন্দ্র এবং অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা।
জেলা আদমশুমারি এবং স্কুল মাতৃভূমির একাংশ হিসেবে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে মিলিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে—অন্যথায় বারবার শূন্য পাসের মতো ঘটনার ধাক্কা শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করবে।
আমাদের কাছে জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরও বিশদ মন্তব্য পাঠানো আছে; প্রাসঙ্গিক নথিপত্র আদেশ অনুযায়ী প্রত্যাখ্যান না করা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ের তথ্য সরবরাহ করা হবে।