ফলে চরম অবনতি: যেখানে কেউ উত্তীর্ণ হয়নি
জয়পুরহাটে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযিযুল হাকিম। ওই পাঁচটির মধ্যে কয়েকটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাবিভাগ সমস্যা শনাক্ত করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশানুসারে ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।
কোন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফল বিপর্যয়?
- কালাই উপজেলার পুর এমইউ ফাজিল মাদ্রাসা: ২১ জনের মধ্যে ২১ জনই ফেল
- আক্কেলপুরের গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা: ১৬ জনের মধ্যে ১৬ জনই ফেল
- জয়পুরহাট আদর্শ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা: ৮ জনের মধ্যে ৮ জনই ফেল
- ক্ষেতলাল উপজেলার কাপাসঠিকরি দাখিল মাদ্রাসা: ৬ জনের মধ্যে ১ জন অনুপস্থিত, বাকি ৫ জন ফেল
- পাঁচবিবি উপজেলার শিরট্টি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়: ৫ জনের মধ্যে ৫ জনই ফেল
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা পরপর দুই বছর এই তালিকায় রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সঙ্কটকে নির্দেশ করে।
জেলাভিত্তিক সামগ্রিক ফল—সংখ্যায় ও অনুপাত
জেলা শিক্ষা জীবনিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জয়পুরহাট জেলায় মোট ১২,০০৩ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭,১৭৮ জন পাস করে এবং ৮০১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলায় পাসের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮%। পাস হার ভেদে ভুগল: মাধ্যমিক স্তরে ৬৭.২৪%, মাদ্রাসায় ৪০.৩৫% এবং কারিগরিতে ৪৩.৫১%।
| ক্যাটাগরি | পাস হার (%) |
|---|---|
| মাধ্যমিক | ৬৭.২৪ |
| মাদ্রাসা | ৪০.৩৫ |
| কারিগরি (কারিগরি শিক্ষা) | ৪৩.৫১ |
উজ্জ্বল দিকও রয়েছে
তবে সব প্রতিষ্ঠানে হতাশার ছায়া নয়। জেলায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে—এখানে ওই প্রতিষ্ঠানের ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন এটিপ্লাস (এ-প্লাস) এবং ২ জন এ-গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার জানান, “প্রতিবছর পরীক্ষার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ বছর চিঠি পাওয়া মাত্রই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
“প্রতিবছর পরীক্ষার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ বছর চিঠি পাওয়া মাত্রই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” — জেসমিন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)
শিক্ষাবিভাগের বরাতে বলা হচ্ছে, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, পাঠদানশৈলী, ও অন্যান কমিক্যাল বা সামাজিক কারণগুলোর তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি শিক্ষা মানহীনতা, অনুপস্থিতি বা প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা পাওয়া যায়, তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একটি স্কুল বা মাদ্রাসায় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমানের ফল হলে তা ওই এলাকার শিক্ষাবৃত্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে—বিশেষত নারী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক পরিবারের ক্ষেত্রে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে জরুরি বলে শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় নেতারা মনে করছেন।
জেলার শীঘ্রই চূড়ান্ত রিপোর্ট এসে গেলে তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শিক্ষাগত মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ অথবা প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।