রাজশাহী বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জয়পুরহাট জেলায় মোট ৮ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন; এর মধ্যে ৫ হাজার ৭৩৪ জন পাস করেন। জেলায় সাধারণ পাসের হার ঘোষণা করা হয়েছে ৬৭.৫৩ শতাংশ, যা জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাবিভাগ সন্তোষজনক বলে দেখেছেন।
মেয়েদের অগ্রগতি ও ছেলেদের তুলনা
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী যৌথ বিশ্লেষণে দেখা যায়—মোট ৪ হাজার ১৯৪ জন নারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৮৭ জন পাস করেছেন, ফলে মেয়েদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩.৬১ শতাংশ। অন্যদিকে ৪ হাজার ২৯৭ জন পুরুষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৬৪৭ জন পাস করেছেন, পুরুষদের পাসের হার ৬১.৬০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সফলতা: জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ
জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ-এর পক্ষ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৫৬ জন পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসিতে অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে ৫৪ জনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন। কলেজ সূত্র জানায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫১ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল; বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
"ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে এ সাফল্য এসেছে," — কলেজ সূত্রে বলা হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফুল হকের তত্ত্বাবধানে, সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখার কৃতিত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত কাজের ফল বলে বিবেচিত হচ্ছে।
জেলার অন্য প্রতিষ্ঠানের ফল ও সাফল্যের তুলনা
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী জেলার অন্যান্য কিছু বড়—মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও উল্লেখযোগ্য।
- রামদেও বজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: ৩৯ শতাংশ জিপিএ-৫ হার।
- জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৩৮.৮ শতাংশ জিপিএ-৫ হার।
- জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয়: ৩৫.৩ শতাংশ জিপিএ-৫ হার এবং এই স্কুল থেকেই জেলা মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হিসেবে ১২১১ নম্বর অর্জন করা হয়েছে।
| সুচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট পরীক্ষাার্থী (জেলা) | ৮,৪৯১ |
| মোট পাস | ৫,৭৩৪ |
| জেলায় পাসের হার | ৬৭.৫৩% |
| জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ: অংশগ্রহণকারী | ৫৬ |
| জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ: জিপিএ-৫ | ৫৪ |
দায়িত্বশীলদের মন্তব্য ও সামগ্রিক ব্যাপ্তি
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার ফলাফল প্রকাশের পর জানান, জেলায় এবারের পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক। তিনি জেলার শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অবদানে এই ফলাফল অর্জিত বলে জানান।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন ও ছাত্র–শিক্ষিকevaluত্মক কাজের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জেলার সার্বিক পাসহার ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তফাত বিশ্লেষণ করে শিক্ষাবিভাগের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাবে—বিশেষ করে ছেলেদের পাসহারের যেখানে তফাত দেখা গেছে সেখানে গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
এসএসসি ফল ঘোষণার ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শক্তির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতি ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজে লাগবে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।