রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর-কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বুধবার নয়; বুধবারের আগের দিনের বিকেলে—১১ আগস্ট ২০২৬—দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় ভূমিকা ও রাজনৈতিক পরিচয়
দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, ডা. জাহাঙ্গীর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা রয়েছে। পদে–পদে সংগঠনের অভিজ্ঞতা এবং নগরীতে সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পেশাগত পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক; বর্তমানে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ কর্মরত আছেন। রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। দলটির একটি সূত্র বিবৃতি দিয়েছে যে, তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অনুশীলন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকার কারণেই এই প্রার্থিতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নগর নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
রাসিক নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে—এমনটিই পরিলক্ষিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর এই ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ আনবে বলে দলের নেতারা মনে করছেন। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের পরিধি ও তৎপরতা আরো জোরালো হবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে দলীয় নেতারা।
- মনোনয়ন ঘোষণা: ১১ আগস্ট ২০২৬
- প্রার্থী: ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- দায়িত্ব: রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির (জামায়াতে ইসলামী)
- পেশা: চিকিৎসক, ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
- সাবেক নির্বাচন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, রাজশাহী-২ (সদর) এ প্রার্থী
প্রার্থিতার সূত্র ও দলীয় যুক্তি
দলীয় সূত্র জানায়, শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোতে দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ, সংগঠনগত গ্রহণযোগ্যতা এবং চিকিৎসা খাতে কাজ করার কারণে ডা. জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করা হয়েছে। রাজশাহীর নগর ব্যবস্থাপনা ও সেবায় তার চিকিৎসাজ্ঞানের ভূমিকা বিশেষভাবে কাজে লাগবে—এমনটাই দল মনে করছে।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রার্থী | ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর |
| দল | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| বর্তমান পদ | নায়েবে আমির, জামায়াতে ইসলামী, রাজশাহী মহানগর |
| পেশা | চিকিৎসক, ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| সংশ্লিষ্ট নির্বাচন | রাসিক মেয়র — আসন্ন |
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ
রাজশাহী সিটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক মানচিত্রে প্রভাব ফেলবে—এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নয়, দলেরই অভিমত। দলের অভিমত অনুযায়ী, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় নগরে তাদের ভোট সংগঠনের কাজ ও প্রচারণা ত্বরান্বিত হবে। তবে বাকী মূল রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং প্রচারণার ধরণ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আগাম কার্যক্রম ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের কৌশলের ওপর।
রাজশাহী পৌর ও নগর নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় উন্নয়ন, সেবার বণ্টন, এবং নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিযোগিতা করে—এবারও বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনার মূল পার্টিশন ধরে রাখবে। জামায়াতের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে প্রতিযোগিতার তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই ঘোষণার পর থেকে দলের নির্বাচন কার্যক্রম কিভাবে সাজাবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি মনোনয়ন ঘোষণা করবে তা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজশাহীবাসীর কাছে নগর ব্যবস্থাপনা ও সেবা নিশ্চিত করাই প্রার্থীদের মূল পরীক্ষার মাপকাঠি হবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।