অভিযোগের সারমর্ম
জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা-২০২৬-এর গণিত বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষায় অনেক ছাত্রীর অন্যান্য বিষয়ে ভালো ফল হওয়া সত্বেও গণিতে প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও কয়েকজন অভিভাবক।
বিষয়টি সাধারণ অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে
অভিভাবকরা বলছেন, ওই শিক্ষক মো. আজিজুজ্জামান সিদ্দিকী-র কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পেয়েছেন। বিপরীতে তিনি প্রাইভেট না পড়া কিছু শিক্ষার্থীর নম্বর কম দিয়েছেন বলে অভিভাবকরা ধারণা করছেন এবং আচরণেও বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন। তারা জানতে চাচ্ছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করেছে কি না।
"অষ্টম শ্রেণির ফলাফল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।"
অভিভাবকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে মেধাক্রম বা রোল পরিবর্তনের কারণে নবম শ্রেণিতে শ্রেণিক্রম, রেজিস্ট্রেশন এবং ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার আসনবিন্যাসেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।
বিদ্যালয়ের কাছে অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
অভিভাবকরা ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শামছুল হক-কে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দেন এবং পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রথম দফায় সিনিয়র শিক্ষকদের নেয়ার বদলে সহকারী শিক্ষক রাকিবুল বাশার-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্বে সহকারী প্রধান শিক্ষক আਕতারুজ্জামান-কে নিয়োগ দেয়া হয়।
পরবর্তী করণীয় ও আবেদন
অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্তের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়ন দাবি করছেন যাতে নিশ্চিত করা যায় ছাত্রছাত্রীদের নম্বর সঠিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে কি না। তারা চান, পুনর্মূল্যায়নেই যদি অসামঞ্জস্য পাওয়া যায় তবে তৎপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- অভিযোগকারীরা: শিক্ষার্থী ও কয়েকজন অভিভাবক
- অভিযোগের বিষয়: নম্বর প্রদানে পক্ষপাত, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতার অভাব
- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ক্রিয়া: লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আশা এবং পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষেপ)
| তারিখ | ঘটনা | দায়িত্বপ্রাপ্ত/মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২৭ জুলাই | অভিভাবকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন | ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শামছুল হক |
| তারপরকারি সময় | প্রথম দফায় পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব সহকারী শিক্ষক রাকিবুল বাশারকে প্রদান | বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ |
| পরে | পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব সহকারী প্রধান শিক্ষক আকতারুজ্জামানকে দেয়া হয়েছে | বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ |
এ পর্যন্ত অভিভাবকদের অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও ব্যাপক বিবৃতি পাওয়া যায়নি; তবে কর্তৃপক্ষ পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের ওপরই স্থানীয় সমাজের নজর রয়েছে।
জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ঘটনার ফলাফল ও প্রভাব কেবল ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্যই নয়; সবার জন্য পাঠক হিসেবে এই ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটা জরুরি তা নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাব্যবস্থা নজর রাখবে যে পুনর্মূল্যায়ন কতটা দক্ষ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।