জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের গণিত বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কলেজকে উপহার দেওয়া একটি মিনি ফ্রিজ কলেজের অফিসে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্রিজটি বছরের কিছুক্ষণ আগে গণিত বিভাগের অফিসে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে জেলা সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলী সেই উপহারকৃত ফ্রিজটি নিজের বাসায় নিয়ে গেছেন—যা নিয়ে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৯০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি মিনি ফ্রিজ কলেজকে উপহার দেন। উপহার কালে ফ্রিজটি গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অফিস কক্ষে রাখা হয় এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা সেটি ব্যবহার করতেন।
তবে কয়েক মাস আগে বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলীর পরিবারের ব্যবহারের জন্য ফ্রিজটি তার বাসায় নেওয়া হয়—কারণ তার বাসায় থাকা ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই জানিয়েছেন। ঘটনাটি কলেজ শিক্ষক ও অনেকে জানতে পারলে উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ
কলেজের এক শিক্ষক বলেন, "আমাদের এখানে সব শিক্ষার্থী যেমন এক না। তেমনি সব শিক্ষকও এক না। একেক জনের মানসিকতা একেক রকম। তবে কলেজের সম্পদ বাসায় নেওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের সবাইকে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।"
"আমরা পড়াশোনা শেষ করে যখন কলেজ থেকে চলে যাই তখন নিজেরা কিছু কিছু টাকা দিয়ে একটা উপহার কিনি। উপহারটা আমাদের স্মৃতি বহন করবে... কিন্তু আমাদের দেওয়া উপহারটি যদি স্যাররা তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে আমাদের স্মৃতিটা কোথায় থাকবে। এটা এক ধরনের লুটপাট।"
উপরের অভিযোগটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীর। তিনি কাঁটা-কঁটা ভঙ্গিতে আক্ষেপ করেন যে বিদ্যার্থীরা নিজের অর্থে কেনা উপহারটি কলেজেই থাকবে বলে আশা করেছিল, এঘটনায় তাদের স্মৃতি ও আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শিক্ষার্থীর কথায়, সরাসরি অভিযোগ করলে পরীক্ষা বা নম্বরসহ ব্যক্তিগত প্রতিশোধের আশঙ্কা থাকায় অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলছে না।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনাটিকে খারাপ কাজ বলে স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, কলেজের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ঠিক হয়নি। অধ্যক্ষের মন্তব্যের উদ্ধৃত অংশ সংবাদসূত্রে উল্লেখ আছে যে সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা ঠিক নয়—যদিও তিনি ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না তা রিপোর্টে পুরোদমে প্রকাশ্য হয়নি।
অভিযুক্তের দাবি
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্বাছ আলী ঘটনার প্রসঙ্গে বলেছেন, ফ্রিজটি বিভাগে তেমন প্রয়োজন পড়ে না এবং তার বাসায় ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে গেছে—তাই তিনি সেটি নিয়ে গেছেন। রিপোর্টটি সম্পূর্ণভাবে তার বক্তব্য উদ্ধৃত না করলেও উপস্থাপিত অংশ থেকে বোঝা যায় তিনি বিষয়টি যৌক্তিক কারণ দেখিয়েছেন।
প্রশ্ন ও জানার অপেক্ষা
এই ঘটনার পরে কিছু প্রশ্ন ওঠে যেগুলোর সুষ্ঠুভাবে তদন্ত ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন:
- ফ্রিজটি উপহার দেয়ার সময় কীভাবে এবং কার অনুমতিতে সেটি বিভাগের অফিসে রাখা হয়েছিল?
- ফ্রিজটি ব্যক্তিগত কাজে নেয়ার আগে অফিসিয়ালি কোনো তথ্য প্রদান বা অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না?
- কলেজে উপহারকৃত সামগ্রী রেজিস্টার করা ও ব্যবহারের নিয়ম আছে কি না—এবং থাকলে কেন তা মোতাবেক কাজ করা হয়নি?
| বিষয় | উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| উপহারকৃত আইটেম | মিনি ফ্রিজ (প্রায় ৯০ লিটার) |
| উপহারদাতা | গণিত বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শিক্ষার্থীরা |
| প্রাথমিক অবস্থান | গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অফিস কক্ষ |
| বর্তমান অবস্থান (অভিযোগ) | অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্বাছ আলীর বাসা |
স্থানীয় প্রভাব ও নৈতিক প্রশ্ন
সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাওয়া উপহার শিক্ষার স্মৃতি ও প্রতিষ্ঠানগত অনুভবের অংশ। এমন উপহার যদি অনাকাংক্ষিতভাবে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত হয়, তা শিক্ষার্থী-প্রতিষ্ঠান সম্পর্ক ও বিশ্বাসকে ক্ষুন্ন করতে পারে। শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে আদর্শ ও নৈতিক মান বজায় রাখা জেলা তথা সমাজে শিক্ষার প্রতি আস্থা ধরে রাখার জন্য জরুরি।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত দাবি করছে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় সমাজও আঁচ করছে যে সরকারি সম্পদের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে।
আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলীর বিস্তৃত বক্তব্য, কলেজ প্রশাসনের নিয়মানুযায়ী উপহার-সম্পদ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা এবং অধ্যক্ষের নির্ণায়ক মন্তব্য সংগ্রহ ও পরবর্তী প্রতিবেদন দেবো।