রাজনীতি জামালপুর জামালপুর (05)

পেশা সংকটে জামালপুরের দলিল লেখকরা: জেলা প্রশাসকের কাছে সাত দফা দাবি

দলিল রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে পেশা হুমকির মুখে পড়েছে—জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে সাত দফা দাবির স্মারকলিপি দেন; ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা, লাইসেন্স-পদ্ধতিতে কড়াকড়ি ও কাউন্সিল গঠনের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

পেশা সংকটে জামালপুরের দলিল লেখকরা: জেলা প্রশাসকের কাছে সাত দফা দাবি
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

জামালপুরে জেলা দলিল লেখক সমিতি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক স্মারকলিপি জমা দিয়ে তাদের সাত দফা দাবি প্রধান করে প্রশাসনের কাছে কার্যকরি ব্যবস্থা চেয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন জেলা সমিতির সভাপতি আরজু আকন্দ ও সাধারণ সম্পাদক হানিফ উদ্দিন।

দাবির সারমর্ম

স্মারকলিপিতে দলিল লেখকরা বলেছেন, বর্তমান যে দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে, তার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পেশাকে বাদ দেওয়া হলে এটি তাদের আয়ের উৎসকে বিপন্ন করবে। স্মারকলিপিতে বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • প্রতিটি দলিলের জন্য ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করা হোক।
  • আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।
  • লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কাউকে দলিল মুসাবিদার সুযোগ দেওয়া হবে না।
  • অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখক হিসেবে লাইসেন্স প্রদান থেকে বিরত থাকা।
  • দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দেওয়ার দাবি।

জেলা দলিল লেখক সমিতির সদর ইউনিটের সভাপতি মওদুদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহন আকন্দও স্মারকলিপি প্রদানের সময় বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

কেন উদ্বেগ তীব্র?

দলিল লেখকরা বলছেন, রেজিস্ট্রেশন ও দলিল প্রস্তুতির কাজটি তাদের প্রধান পেশা ও আয়ের উৎস। এ কাজে প্রযুক্তি আর অনলাইন পদ্ধতির অভিষেক হলেও স্থানীয় স্তরে দলিল লেখকদের ভূমিকা শতভাগ মুছে ফেলা গেলে তাতে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে। দলিল লেখকদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার জায়গায় যদি অনভিজ্ঞ কেউ আসেন, তাহলে লেনদেন এবং দলিলগত সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—এ ধরনের উদ্বেগের প্রতিফলন স্মারকলিপিতে পাওয়া গেছে।

দাবিগুলো — সংক্ষিপ্ত তালিকা

ক্রমিক দাবি
পেশাচ্যুত না করার নিশ্চয়তা
দলিলপ্রতি ৫,০০০ টাকা সম্মানী ভাতা
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কাউকে দলিল মুসাবিদার সুযোগ বাতিল
অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স বিতরণ বন্ধ
দলিল লেখক কাউন্সিল অনুমোদন

স্মারকলিপিতে সাত দফার উল্লেখ থাকলেও প্রকাশিত নথিতে সব দফার পূর্ণ বিবরণ নেই। তবে উপরে উল্লেখিত মূল দাবি গণপ্রতিনিধিত্ব করছে বলে দলিল লেখক নেতারা জানান।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী?

বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং বিষয়টি তারা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে। জেলা প্রশাসক বা তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সাংবাদিকদের কাছে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রভাব ও উভয়পক্ষের পথ

দলিল লেখকদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তা তাদের আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বহু পরিবারের জীবিকার অবলম্বন স্থিতিশীল থাকবে। অন্যদিকে, প্রশাসন আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করলে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। ফলে প্রয়োজন সঠিক হিসেব, লাইসেন্স প্রদান ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় করা—যাতে পেশাজীবীরা বাদ না পড়েন এবং সার্বিক সেবা উন্নত হয়।

জেলা দলিল লেখক সমিতি তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে। আগামী দিনে প্রশাসন ও দলিল লেখকদের মধ্যে কোন আলোচনা-সমঝোতা হয়, তা নজরে থাকবে—কারণ এ ইস্যু জেলার ভূমি ও সম্পত্তি লেনদেনের স্বচ্ছতা ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

05জামালপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো জামালপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব