জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে গত ২৩ আগস্ট ভাড়া বাসা থেকে ইশরাত জাহান (নাম সূত্রে) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনার মূল অভিযোগভুক্ত—কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর কার্যালয়ের অভিযান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার বিকেলে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় তাকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই নিশ্চিতকরণ ও মামলা
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটা এলাকার পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলাটি জামালপুর সদর থানায় নিহতের মা মুক্তা বেগম দায়ের করা একটি হত্যা মামলার ভিত্তিতে পিবিআই তদন্তে ছিল। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনের নাম উল্লেখ ছিল।
"তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।"
পিবিআই তদন্তে যা উঠে এসেছে
পিবিআই তদন্ত থেকে উঠে আসা মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে:
- নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসারকে স্থানীয়রা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে জানলেও তদন্তে তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না; উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল।
- ২০১৪ সালে ইশরাতের বিয়ে শাওন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে হয়; তাদের দুই সন্তান—এক মেয়ে ও এক ছেলে।
- ২০২১ সালে ইশরাতের স্বামী শাওন মারা যাওয়ার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস শুরু করেন।
- প্রায় তিন বছর পূর্বে ইশরাত ও কাউসারের পরিচয় হয় কাউসারের দোকানে কেনাকাটার সূত্রে। এরপর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ইশরাত কিছু শারীরিক সম্পর্ক গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখতেন—পিবিআই তদন্ত অনুযায়ী পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে কাউসারের কাছ থেকে পরিচিতি অনুযায়ী অর্থ আদায় হতো।
ঘটনার দিন ও শিশুদের পরিস্থিতি
পিবিআই জানায়, ২৩ আগস্ট সকালে কলাবাগান গলির বাবুল মিয়ার বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলা থেকে ইশরাত জাহানের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে থাকার সময় ওই বাসায় ইশরাতের দুই সন্তানও উপস্থিত ছিল। নিহতের মা মুক্তা বেগম পরে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০১৪ | ইশরাতের বিয়ে—শাওনের সঙ্গে |
| ২০২১ | ইশরাতের স্বামী শাওন প্রয়াত; ইশরাত জামালপুরে বসবাস শুরু |
| প্রায় ৩ বছর আগে | কাউসারের দোকানে ইশরাত পরিচিতি; পরবর্তীকালে সম্পর্ক গড়ে ওঠে |
| ২৩ আগস্ট | কলাবাগান গলির ভাড়া বাসা থেকে ইশরাতের মরদেহ উদ্ধার |
| ২৫ আগস্ট | পিবিআই জামালপুর কাউসারকে বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে |
প্রাসঙ্গিকতা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
পিবিআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশরাতের কথিত ভিডিও ব্যবহার করে কাউসারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেইলিংের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের সময় এসব অভিযোগ ও ঘটনার প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে দেখা হয়েছে। পিবিআই দাবি করেছে—নাম উল্লেখ করে কাউসার হলেন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি এবং অপর দুই অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও খুঁজে বের করা হচ্ছে।
স্থানীয় আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গ্রেফতারকৃত কাউসারের রিমান্ডাদেশ, জিজ্ঞাসাবাদি ও সাবেকি সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ওই ঘটনার ফলে শহরের নিরাপত্তা ও ভাড়াবাসা এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পিবিআই জামালপুরের বক্তব্য ও মামলার কাগজপত্রের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা তথ্যগুলো সাজানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার সব দিকের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।