যমুনার ভাঙনঝুঁকিতে থাকা চরাঞ্চলের এই প্রকল্পটি কাইজার চরে নির্মাণাধীন। সরকার ও বিদেশি অংশীদারের যৌথ উদ্যোগে এতে পরিকল্পিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রাথমিক ১০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১১০ মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, বিনিয়োগ ও স্থানীয় পুনর্বাসন—এসবই মিলিয়ে এটি কাইজার চর ও আশপাশের এলাকার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
প্রকল্পের পরিসর ও অবস্থা
প্রকল্পের জন্য মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৩২৫.৬৫৩৬ একর। এখন পর্যন্ত প্রকল্প এলাকার ভূমি উন্নয়ন ও মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সৌর প্যানেল স্থাপনের খুঁটি বসানোসহ প্রাথমিক নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোট কাজের প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ শেষ করে উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীদারিত্ব। মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৩১.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। চীনের ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেড যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০২৩ সালের ১৩ জুন। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী সিআরইসির অংশীদারিত্ব ৭০ শতাংশ।
অর্থসংকট ও সময়সীমা
কাজের গতিতে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও অর্থসংক্রান্ত জটিলতা প্রকল্পকে সময়মত চালু হতে বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অঙ্কের বিল বকেয়া থাকায় কিছু কাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলত প্রকল্পের মেয়াদ পূর্বে বাড়ানো হয়; নতুন সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহযোগিতা নিশ্চিত হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব।
স্থানীয় প্রভাব ও পুনর্বাসন
প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকিতে এলাকায় পুনর্বাসন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় মোট প্রায় ১০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসন এলাকায় পাকা বাড়ি, বাজার, মসজিদ ও ফার্মেসিসহ কিছু মৌলিক সুবিধা রাখা হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এটি স্থানীয় জীবনে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন আনবে—এখানে নতুন বাজার ও সেবা কেন্দ্র গড়ে উঠলেই কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
টেকসইতা ও জাতীয় গুরুত্ব
সরকারি হিসেবে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য শক্তি যোগ করতে যাচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার সময় এমন প্রকল্প গ্রিডভিত্তিক চাপ軽াতে সহায়ক হবে। এছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও এর ভূমিকা থাকবে—যদিও প্রকল্প পরিচালনার সময় পরিবেশগত সতর্কতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ সংরক্ষণ জরুরি থাকবে।
চ্যালেঞ্জ ও নজরদারি
- অর্থায়ন ব্যাহত: বকেয়া বিলের কারণে কাজ ধীরগতিতে পড়েছে।
- নদীভাঙনঝুঁকি: যমুনার চরাঞ্চল হওয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা—প্রতিরক্ষা বাঁধ—নির্মাণ করা হয়েছে।
- পুনর্বাসনের মান: ১০০ পরিবার পুনর্বাসিত হলেও তাদের জীবনযাত্রায় স্থায়ী উন্নতি কতটা হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
প্রকল্পের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | মাদারগঞ্জ ১০০→১১০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট |
| নির্ধারিত উৎপাদন ক্ষমতা | ১১০ মেগাওয়াট |
| জমির পরিমাণ | প্রায় ৩২৫.৬৫৩৬ একর |
| কাজের অগ্রগতি | প্রায় ৬০% সম্পন্ন |
| মোট বিনিয়োগ | প্রায় ১৩১.৫৬ মিলিয়ন ডলার |
| অংশীদার | সিআরইসি (চীন) ও বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেড |
| চুক্তি স্বাক্ষর | ১৩ জুন ২০২৩ |
| মেয়াদ বাড়ানো | জুন ২০২৭ পর্যন্ত |
এই প্রকল্প লোকে-ছোঁয়া, জলবায়ু ও অর্থনীতির সঙ্গেই জড়িত; তাই সময়সীমা ও অর্থায়ন নিশ্চিত হলে দ্রুত বাস্তবায়ন দেশীয় শক্তি মিশ্রণে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতার দাবি উঠছে—নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের উচিত এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট করে জনগণের কাছে আনা।