জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে ভূমিদস্যু ও প্রতারণার অভিযোগে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে মানববন্ধন করেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী পশু চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টু স্থানীয়দের জমি-জমা জবরদখল ও প্রতারণার মাধ্যমে দখল করছে। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি ও অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান সৌরভ, নাজমা বেগম, রুমা, জালাল মিয়া, সাইদুর রহমান মানিক, লোকমান হোসেন ও অন্যান্যরা। তাদের অভিযোগ, মন্টু কম জমির কথা বলে বেশি জমি ক্রয়ের দলিল করায়, মিথ্যা ও ভুয়া মালিক সাজিয়ে জমি অধিগ্রহণ করে এবং স্থানীয়দের মারধর ও হুমকি দিয়ে তাদের অধিকার হরণ করে আসছে।
"ওই ভূমিদস্যু জোরপূর্বক আমাদের ২ একর ৬০ শতাংশ জায়গা বেদখল করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, মন্টু স্থানীয়দের পৈত্রিক সম্পত্তি বা ক্রয়কৃত জমির ওপর অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে। তাদের দাবি, তিনি ন্যায়বিচার না পেলে ও জমি ফেরত না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।
দাবি-উল্লেখিত বিশদ
ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান মানিক জানান, তার পিতা লোকমান হোসেন ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করতে চাইলে মন্টু কৌশলে ৪২ শতাংশ জমির দলিল করে নেন এবং সম্পূর্ণ মূল্য এখনও পরিশোধ করেননি। এ ঘটনায় মানিকের পিতা গত ছয় মাস আগে স্ট্রোক করে মারা যান—ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনাটিকে সম্পর্কিত করেছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্টু দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে ন্যায্য ব্যক্তিদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গেন্দারপাড়া গ্রামের অন্তত ২০ জনের নিকট থেকে ও খাস জমিসহ মোট ২৩ একরের বেশী জমি তিনি একাই অবৈধভাবে দখল করেছেন।
প্রশাসনিক অনুরোধ ও প্রতিক্রিয়া
মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মন্টুর বিরুদ্ধে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, স্থানীয় ন্যায়বিচার না হলে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তাদের ধৈর্য শেষ হয়ে যাবে।
সংবাদসংগ্রহের সময় মন্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী বলে উল্লেখ থাকায় স্থানীয়রা সচেতন ও আশঙ্কিত বলেও জানান।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
ভুক্তভোগীদের দাবি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে এর ফলে বহু পরিবারে ভূমি অনিশ্চয়তা, আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। জমি বিরোধ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী কোর্টলড়াই, ব্যক্তিগত সংঘাত ও সামাজিক অশান্তির সূত্রে পরিণত হয়—এগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান মেলে না।
- ভুক্তভোগীদের সংখ্যা: স্থানীয়দের দাবি অন্তত ২০ জনের বেশি।
- অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জমি দখলের পরিমাণ: স্থানীয়ভাবে উল্লেখিত প্রায় ২৩ একরের বেশি।
- প্রধান দাবি: আক্রান্তদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া, নিরাপত্তা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়েছে; প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয়রা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
এই ঘটনায় আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই হলে বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হবে—তদন্তে আদালত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর স্থানীয়দের আস্থা রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, তারা আইনের আশ্রয় নেবেন এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন যাতে তাদের জমি ফেরত পেতে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।