চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ঘটে মৃত সালিশে পড়ে গাইবান্ধার দুই যুবক—রানা মিয়া ও খোকন মিয়া। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ফেরদৌস স্টিল নামের ইয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে তাদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা কান্না ও আহাজারিতে ভেঙে পড়েন।
ঘটনা ও নিহতদের পরিচয়
স্থানীয় ও সূত্র বলছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক কাটা সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধার দুই জন রয়েছেন।
- রানা মিয়া — গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুপতলা গ্রামের বাসিন্দা; বয়স ২৩।
- খোকন মিয়া — সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা; বয়স ২৬।
বাড়িতে পৌঁছানো ও দাফন
রানার মৃতদেহ শনিবার সকাল ১০টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে পশ্চিম কুপতলা তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। জোহরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। একইভাবে খোকন মিয়ার মরদেহ সকাল ১১টায় কিশামত হলদিয়া গ্রামে পৌঁছে এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে তাকে দাফন করা হয়।
রানার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “হামার কষ্ট দূর করার জন্য ব্যাটাটা চাকরিত গেছিল। ওকে নিয়ে মেলা আশা ছিল… কিন্তু কপালে সইলো না।”
স্থানীয়রা জানান, মরদেহ বাড়িতে পৌঁছার পর থেকেই স্বজনরা আহাজারি করছে এবং গ্রাম তথা আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের পটভূমি ও কর্মজীবন
রানা মিয়া স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (২০২১) এবং পরে সাদুল্লাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি (২০২৩) পাস করেছিলেন। চাকরি না পেয়ে তিনি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার বড়ভাই মোনারুল ইসলাম চট্টগ্রামে অন্য কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং স্ত্রী মিশু খাতুন (২৫) নিয়ে সেখানে থাকেন। রানার একমাত্র বোন পিংকি রাণীর বিয়ে হয়েছে।
পরিবারের কথায়, রানা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে আবেদন করেছিলো এবং তার লিখিত পরীক্ষা আগামী ২১ আগস্ট নির্ধারণ করা ছিল। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সারার গোলযোগ-সংঘর্ষ থাকা সত্ত্বেও ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সে আজ বাড়ি আসার কথা ছিল; কিন্তু ফিরে এলো লাশ হয়ে।
খোকন মিয়া শিক্ষাজীবন বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্যসূত্রে সীমিত হলেও স্থানীয়রা জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাহাজভাঙা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
| বিস্তারিত | রানা মিয়া | খোকন মিয়া |
|---|---|---|
| বয়স | ২৩ | ২৬ |
| ঠিকানা | পশ্চিম কুপতলা, কুপতলা ইউপি, গাইবান্ধা সদর | কিশামত হলদিয়া, ধোপাডাঙ্গা ইউপি, সুন্দরগঞ্জ |
| চাকরি | ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শ্রমিক | জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিক |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
পরিবারের বর্ণনায়, রানার বা খোকনের উপার্জন ঘরের ব্যয় চালাত—তাঁদের মৃত্যু নিয়ে এখন পরিবারের জীবিকা উদ্বেগজনক হয়ে পড়েছে। রানার বাবা হারুন অর রশীদ বলেন, “আমি দিনমজুর, যে টাকা আয় হয় সংসারে চলে না… এখন কে আমাকে টাকা দেবে?”
এ ঘটনায় গাইবান্ধার দুই গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়স্বজন শোকাচ্ছন্ন। এলাকায় কেউ কেউ ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন যে কাজের পরিবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও তৎপর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ থাকলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো যেত।
এ পর্যন্ত ঘটনার শুভত্তর তদন্ত ও নিহত-আহতদের পরবর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনার অনুসরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে আরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
WE NEWS গাইবান্ধা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশিষ্ট দফতরগুলোর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে।