দিনাজপুরে র্যাব, বিজিবি ও সদর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি বড় আকারের কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর রাতে চাতরা গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন হাতে-নাতে নয়, বরং মূল্যবান কষ্টিপাথরের এই মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তার
র্যাব-১৩-এর সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প, ৪২ বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন এবং সদর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ দল সোমবার রাত আড়াইটার দিকে চাতরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেপ্তার হন মো. পারভেজ মন্ডল (৩৮), তিনি চাতরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী ঠিকানার বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকৃত মূর্তির বর্ণনা
উদ্ধারকৃত মূর্তিটি কালো পাথরের করা এবং র্যাব জানায় এর ওজন ও আকৃতিসূচক তথ্য নিম্নরূপ:
| বিবরণ | মান |
|---|---|
| ওজন | ৩২.১৫ কেজি (৩২ কেজি ১৫০ গ্রাম) |
| দৈর্ঘ্য | ৩২.৫ ইঞ্চি |
| প্রস্থ | ১৩.৫ ইঞ্চি |
| আনুমানিক মূল্য | ৩২ লাখ ১৫ হাজার টাকা |
গ্রেপ্তারকৃতের বক্তব্য ও পুলিশের দাবি
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার পারভেজ মো. পারভেজ মন্ডল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মূর্তিটি সংরক্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং সেটি পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে।
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারভেজ মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তিটি সংরক্ষণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(খ) ধারায় মামলা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মূর্তি ও অন্যান্য আলামত সহ পারভেজকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ক্ষতির সম্ভাব্যতা ও সাংস্কৃতিক প্রশ্ন
৩২ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি স্থানীয় পুরাতাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে; এমন নিদর্শন অপহরণ এবং পাচার হলে স্থানীয় ঐতিহ্যগত ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে উদ্ধার কৃত মূর্তিটি প্রকাশ্যভাবে গবেষণা বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করা হবে কি না, সেটা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পর স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক পরবর্তী করণীয়
চাতরা ও আশপাশের এলাকায় এমন ধরনের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়েয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষা ও পাচার রোধের জন্য নিয়মিত নজরদারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- অভিযানে অংশ নেওয়া সংস্থা: র্যাব-১৩ (সিপিসি-১), ৪২ বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন, সদর উপজেলা প্রশাসন
- গ্রেপ্তার: মো. পারভেজ মন্ডল (৩৮), চাতরাপাড়া, দিনাজপুর পৌরসভা ওয়া- ১১
- মামলা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(খ) ধারায় মামলা দায়ের
আইনি প্রক্রিয়া ও অনুসন্ধান
র্যাব ও পুলিশকে এখুনি যে পদক্ষেপ নিতে হবে তা হলো উদ্ধারের সঠিক উৎস ও মূর্তির প্রকৃত ইতিহাস নির্ধারণে দস্তাবেজ ও স্থানীয় সূত্র যাচাই করা। এছাড়া মূর্তিটির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। আইনগত কার্যক্রম শেষে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মূর্তিটি হস্তান্তর করা হতে পারে—কিন্তু তা কবে এবং কীভাবে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এই ঘটনায় আরো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো বিবৃতি এলে পরে সরবরাহ করা হবে।