মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, সদ্য গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি) অধীনে তাদের পরীক্ষা ও সনদকার্য হলে সময় প্রসার ঘটবে এবং শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হবে। তাই দ্রুতভাবে তাদের পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও আশঙ্কা
সভার আয়োজকরা বলেন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নবগঠিত হওয়ায় শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও সনদ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় বিলম্ব ভোগ করতে পারে। তারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজের কাঠামোর মধ্যেই রেখে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে এই সেশনজট কাটানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মুরাদ মুস্তাকিন, আফরিনা সানজিদ, জাহিদুল হাসান রনি ও অদিতি পাল। তারা জানান, প্রয়োজন পড়লে সম্মিলিতভাবে আইনি পথেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীরা বলেছে, “আইনি পদক্ষেপ” নেওয়া হবে যদি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য কোথাও অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিমত ও কর্মসূচি
আলোচনা সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও অনলাইন ভোটের মাধ্যমে মতগ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এসব মতামতের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত না নিলে কঠোর অবস্থানে যাওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতেই সম্মান সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
- তিতুমীর কলেজের ২০২১–২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দ্রুত পরীক্ষা চান।
- সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে থাকা হলে শিক্ষাজীবনে দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
- প্রয়োজনে তারা আইনি পথে কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“যদি শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁদের অন্য কোথাও অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য সালমা বেগমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও তাদের কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
পূর্বঘটনার প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রভাব
প্রতিবেদনে স্মরণ করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পূর্বের প্রক্রিয়ায় প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সেশনজট কাটাতে প্রায় দেড় থেকে তিন বছর সময় লেগেছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।
| আইটেম | অবস্থা |
|---|---|
| শিক্ষার্থীদের অনলাইন ভোটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ | প্রায় ৯০% |
| সংভবনাসম্পন্ন পদক্ষেপ | গণস্বাক্ষর, আইনি পদক্ষেপ |
এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার কাঠামোতে তাদের অন্তর্ভুক্তি করা হবে—এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনুযায়ী নির্ণীত হবে। ততক্ষণে শিক্ষার্থীরা তাদের সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে।
ঢাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় কলেজসমূহের জন্য এই ধরনের অধিভুক্তি ও পরীক্ষানির্ধারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ফলাফল সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মজীবন, ভবিষ্যত উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট প্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভূমিকার দাবি বলপ্রয়োগী মনে হচ্ছে।