দেবিদ্বার থেকে কুমিল্লার শীর্ষ ফল — পেছনে পরিবার ও বিদ্যালয়ের সহায়তা
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের শিক্ষামূলক এসএসসি পরীক্ষায় জেলার সব মাত্রার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১,২৫০ নম্বরের মধ্যে ১,২১৭ নম্বর অর্জন করে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন দেবিদ্বারের মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা।
ইভার বাড়ি দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে; তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক দম্পতি—পিতা মোহাম্মদ জামাল হোসেন ও মাতা শাহিনুর আকতার-এর কন্যা। পরিবার ও বিদ্যালয়ের কঠোর পরিশ্রম ও সহযোগিতা তার এই ফলের পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ইভার সফলতার খবরে দেবিদ্বার উপজেলায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও সহপাঠীরা গর্ব প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মাপকাঠি হিসেবে ইভাকে দেখছেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ ইভার কৃতিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন—
“ইভার এই অভূতপূর্ব সাফল্য আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষক বাবা-মায়ের সুশিক্ষার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সে দেবিদ্বারের গর্ব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ইভার প্রস্তুতি, অনুশাসন এবং পরিবারের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন। তারা মনে করেন—বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পাঠ্যক্রমের কার্যকর সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ছাত্রীকে এই পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা
দেবিদ্বার উপজেলার একটি ছেলে-মেয়েদের মিশ্র জনসংগ্রামে ইভা জাতীয় ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার সম্ভাব্য উন্নতির দিক নির্দেশ করে। পারিবারিক পটভূমি যেখানে শিক্ষকের, সেখানে পড়াশোনার প্রতি ঘরোয়া গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন—নির্দিষ্ট সময়ের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিলে গ্রাম-সহ নৃগোষ্ঠীর ছাত্রীরাও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চ ফলাফল করতে পারে।
এসএসসি ফলের তথ্য-সংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পরীক্ষা | এসএসসি ২০২৬ (কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড) |
| প্রাপ্ত নম্বর (মোট) | ১,২১৭ / ১,২৫০ |
| বিদ্যালয় | দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (বিজ্ঞান বিভাগ) |
| অভিভাবক পেশা | স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক |
আগ্রহীদের জন্য প্রাসঙ্গিক দিকনির্দেশ
- শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা অপরিহার্য।
- অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়ক ভূমিকা—মনোবল বৃদ্ধি ও পরীক্ষার মানসিক প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- স্কুল পর্যায়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি কর্মশালা ও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা ফলাফল উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা কুমিল্লা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে জানান। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রামের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হয়—তার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনার মাধ্যমে দেবিদ্বারসহ কুমিল্লা জেলায় শিক্ষার মান ও সম্ভাবনার ছবি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো। জাকিয়া সুলতানা ইভার অর্জন শুধুই একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার সম্মিলিত প্রয়াস ও পরিবারের সমর্থনের ফল। ভবিষ্যতে তার উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেমন হবে এবং তিনি কিভাবে তার পাঠকে আগামীতে কাজে লাগাবেন—সেই দিকে গ্রামের মানুষেরও নজর থাকবে।
কুমিল্লা জেলা জুড়ে অন্যান্য স্কুল-কলেজ ও অভিভাবকদের কাছেও এই ধরনের সাফল্য অনুকরণীয় উদাহরণ রূপে গ্রহণ করার আহ্বান রইল।