পটুয়াখালীর উপকূলীয় দশমিনা উপজেলার দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের কৃষক শাহ আলম জমাদ্দার সাম্প্রতিক কালে জি-৯ (গ্র্যান্ড নাইন) জাতের কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও একটি এনজিও প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় তার দুই একরজুড়ে গড়ে ওঠা বাগানটি এখন মনে করা হচ্ছে লাভজনক কলা চাষের একটি বাস্তব নমুনা।
কীভাবে শুরু করলেন বাণিজ্যিক চাষ?
প্রচলিত ফলচাষের পাশাপাশি নতুন জাত নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই দীর্ঘদিনের কৃষক শাহ আলম অনলাইনে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে ও বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারণা নিয়ে প্রথম দফায় রংপুরের একটি নার্সারি থেকে ১০০টি টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক জি-৯ কলার গাছ। পাশাপাশি তিনি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কলার গাছের মাঝখানে আমের চারা রোপণ করেছেন — এটি চাষে সমন্বিত বাগান ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্প ও জেলা কৃষি বিভাগের ভূমিকা
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় শাহ আলমকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ৩০টি জি-৯ কলার চারা ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে আধুনিক পরিচর্যা পদ্ধতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষকের কথায়—কম খরচে বেশি ফলন
শাহ আলম বলছেন, জি-৯ জাত সাধারণ জাতের তুলনায় আকারে বড় এবং প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি কলা ধরার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কম সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে এই জাতের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের জন্য সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
জি-৯ জাতের কলা চাষ থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভালো আয় করার সম্ভাবনা থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—যথা রোগবালাই প্রতিরোধ, সঠিক পরিচর্যা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের বাজার বিপণন ব্যবস্থা এবং মৌসুমভিত্তিক পরিবহন সমস্যা। জেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকায় এগুলো ধীরে ধীরে মোকাবিলা করা সম্ভব বলে কৃষি অফিসাররা আশা করছেন।
- প্রাথমিক চারা সংগ্রহ: প্রথম দফায় ১০০টি টিস্যু কালচার চারা।
- বর্তমান অবস্থান: বাগানে প্রায় দেড় শতাধিক গাছ।
- জমির পরিধি: প্রায় ২ একর জমিতে চারা রোপণ।
- প্রকল্প সহায়তা: এসএসিপি-রেইনস থেকে ৩০টি চারা ও নগদ সহায়তা।
চাষ পদ্ধতি ও স্থানিক বিন্যাস
শাহ আলম জানান, তিনি গাছের মধ্যে প্রায় ১২ ফুট দূরত্ব রেখে রোপণ করেছেন। এ ছাড়া বাগানে সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কলার মাঝখানে আমের চারা লাগানো হয়েছে, যা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং একাধিক পসন্দে আগাম ফলন দেয়।
| বিবরণ | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক টিস্যু কালচার | ১০০টি |
| প্রকল্প পর্যায়কৃত চারা | ৩০টি |
| বর্তমান গাছ | দেড় শতাধিক |
| জমির পরিমাণ | প্রায় ২ একর |
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ইনোভেটিভ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকের আয় বাড়াতে ও বয়সভিত্তিক চাষাবাদ থেকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যিক চাষে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করলে জি-৯ জাত ভবিষ্যতে পটুয়াখালীজেলায় এক লাভজনক ফসল হয়ে উঠতে পারে।
খারাপ আবহাওয়া, সঠিক সার ব্যবহার ও রোগনিয়ন্ত্রণ না হলে ফলন কমার সম্ভাবনা থাকায় জেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের সতর্ক করে বলেন—সঠিক প্রযুক্তি অনুসরণ, সময়োপযোগী পরিচর্যা ও বীমা বা বাজার চেইন নিশ্চিত করা গেলে এই জাতের বাণিজ্যিক চাষ দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি আনার ক্ষমতা রাখে।
এই মডেল বাগানটি স্থানীয় পর্যায়ে নজীর হয়ে উঠলে পটুয়াখালীর উপকূলীয় জেলায় প্রশস্তভাবে জি-৯ কলা চাষে কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।