চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৮ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মোট ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ
কুড়ুলগাছি গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত হয়ে ক্লাস গ্রহণ করেন না, ফলে পাঠদানের মান years ধরে দুর্বল। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার সুপার এবং শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না এবং নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না, শুধু বেতন তুলেই সংসার চালান। তিনি আরও বলেন যে সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে অনীহা প্রকাশ করেন।
মাদ্রাসার অবস্থা সারেজমিনে
সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে মাদ্রাসার কক্ষগুলোর ছাত্রসংখ্যা কম এবং কক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা কবিতা জানার মতো সহজ পাঠ্যবস্তুও দুর্বল। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান অনিয়মিত হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক শিক্ষা পর্যন্ত অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
"কি কারণে শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে এ বিষয়টা তারা বুঝতে পারছে না তবে খাতা পুনরায় দেখার জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে,"
এই মন্তব্য করেছেন কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সামাদ আজাদ, তিনি পরীক্ষার ফলে সম্পর্কিত কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেননি এবং পরীক্ষার খাতা পুনঃপরীক্ষার অনুরোধের প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন।
"এই প্রথম এই প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৮ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এটা কি কারণে ফেল করেছে সে বিষয়টা তদন্ত করা হচ্ছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,"
এলেন দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমী সুপারভাইজার রাফিউল ইসলাম, তিনি জানান তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটভূমি ও ধারাবাহিকতা
মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী এমপিওভুক্তির পর থেকে কিছু শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখেন না এবং দিনকয়েকের জন্য নামমাত্র ক্লাস চলে—এতে করে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন বিগত বছর থেকেই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধরে অনুকূল হয়নি এবং এ বছর তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
পাশের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ও শিক্ষার মান বিবেচনায় এলাকাবাসী সতর্ক; তারা বলেন ভবিষ্যতে এই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়া হলে স্থানীয়ভাবে শিক্ষার মান আরও অবনতির মুখে পড়বে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে ভালো শিক্ষার জন্য অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর কথা ভাবছেন, যা ইউনিয়নের সাধারণ শিক্ষা পরিকাঠামোতেও প্রভাব ফেলবে।
- প্রতিষ্ঠানের তথ্য: প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৮৫, এমপিওভুক্ত ২০০১
- শিক্ষক-সদস্য: ২১ জন (মাদ্রাসা সূত্রে)
- এ বছর পরীক্ষার্থী: ২৮ জন
- পাসের হার: ০%
কী করা উচিত — পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ পথ
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দাবি করেছেন শিক্ষা বিভাগের তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে করা দরকার। তদন্তে যদি পাঠদানের অনিয়ম, শিক্ষক অনুপস্থিতি বা প্রশাসনিক ঘাটতি পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। অভিভাবকরা চান—শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, পাঠদানের নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় চড়া নজরদারি প্রবর্তন করা হোক।
এ ঘটনায় অভিযোগ থাকা অবস্থায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব দাঁড়ায় শিক্ষা মান রক্ষা করা এবং পরীক্ষার ফলের পেছনে থাকা বাস্তব কারণ উদঘাটন করে পুনরাবৃত্তি রোধ করা।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| শিক্ষক-কর্মচারী | ২১ |
| পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী | ২৮ |
| পাস | ০ |
দামুড়হুদা এবং জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা অনুরোধ জানিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জেলা শিক্ষাবিভাগ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মতামত সংগ্রহ করে বিষয়টি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।