রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচারকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালত চত্ত্বরে বিক্ষোভ-হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে আদালত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত আছে।
ঘটনার পটভূমি ও অংশগ্রহণকারীরা
স্থানীয় সূত্র এবং উপস্থিতদের বিবরণ অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ও কর্মী দুপুরে আদালতের এক কক্ষে হাজিরা দিয়ে মামলার বিষয়ে জামিনের শুনানি শেষে বিচারকের এমন কয়েক বাক্য—যেগুলোকে তারা সরকারের সমালোচনা হিসেবে অভিহিত করেন—প্রতিবাদ করতে আদালতের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সদস্যসচিব বাবর আলী অভিযোগ করেন, বিচারক আদালতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে এবং আগের সরকারের সমর্থনের কথাও বলেন। বাবর আলী বিবৃতিতে বলেছেন, “বিচারককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।” তিনি আরো বলেছেন যে ভাঙচুরে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
আইনজীবীদের ও পুলিশ বক্তব্য
আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরহাদ হোসেন ঘটনাটি নিয়ে অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন বিচারক সরাসরি সরকারের সমালোচনা করেননি; বরং আদালতের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছিলেন। ফরহাদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী আদালসের বাইরে থাকা দল-এ-মোকাবিলারা তখন হট্টগোল শুরু করলে প্রথমে খাস কামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং পরে এজলাসের দরজার কাচও ভেঙে ফেলা হয়।
পুলিশ ঘটনার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায়। আদালত চত্বরে যে ভাঙচুর হয়েছে তার তদন্ত সিসি ফুটেজের ভিত্তিতে করে করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
স্থানীয় আইনজীবী ও পক্ষগুলোর আপত্তি
স্বেচ্ছাসেবক দলের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, বিক্ষোভের সময় নেতাকর্মীরা আদালত থেকে বের হয়ে প্রদর্শন করেছেন এবং ভাঙচুরে কারা জড়িত তা তার জানা নেই। একই সময়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব আদালত চত্বরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল আচরণ উল্লেখ করেছেন (উক্তি বিবৃতির বাকি অংশ সংবাদিত সূত্রে আংশিক কাটা)।
আদালত কার্যক্রম ও পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ
ঘটনার প্রভাব বিচার কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে বলে আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষণ হচ্ছে—কারা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনার সঠিক ক্রমাবলী। আদালতের সিসি ফুটেজ, উপস্থিত সাক্ষী এবং থানার রিপোর্ট-এই তিন সূত্রে তদন্ত চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ ও জেলা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
- ঘটনার স্থান: জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবন, দ্বিতীয় তলা
- ঘটনার সময়: রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর
- প্রধান দাবি/অভিযোগ: বিচারকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের প্রতিবাদ
| সময় | কার্যকলাপ |
|---|---|
| দুপুর | আদালতে জামিন শুনানি ও বিচারকের কথাবার্তা |
| শুনানি শেষে | আদালত চত্বরের সামনে বিক্ষোভ ও হট্টগোল |
| পরবর্তীতে | খাস কামরার দরজাসহ দু'টি কাচ ভাঙচুর, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে |
“ভাঙচুরের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আদালতের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাবে কে বা কারা জড়িত,” — বাবর আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব
এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে কী ধরণের ধারায় মামলা হবে বা আদালত নিজেই কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে কি-না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা জোরদার, সিসি ফুটেজ বিপর্যস্ত হলে কোথাও অস্পষ্টতা তৈরি হওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক-সামাজিক উত্তেজনা বিবেচনায় করে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত যে ব্যবস্থা নেবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী ও আদালত সচলতা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কড়া পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সম্মান বজায় রাখা ও আদালত চত্বর শান্ত রাখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।