ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক পারিবারিক বসতঘরে গভীর রাতে ডাকাতি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তদলটি বাড়ির ভিতরে ঢুকে থাকা লোকজনকে হাতেনাতে বেঁধে বসতঘর থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান গহনা তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের দাবি
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঐ রাতে বাড়িতে ছিলেন ইমাম খায়রু ইসলাম এবং দুই জন — আশিক ও রাজিব চৌধুরী। অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রথমে ঘরে প্রবেশ করে সকলকে আটক করে রাখে এবং পরে ঘরের সোনাপাতি ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়। তাদের দাবি, চুরি হওয়া সত্তরের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি গহনা ও বড় অঙ্কের নগদ।
| চুরি হওয়া সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| চেইন | ২টি |
| কানের দুল | ২ জোড়া |
| আংটি | ২টি |
| রূপার নুপুর | ১ জোড়া |
| নগদ টাকা | ১,৫০,০০০ টাকা (দেড় লাখ) |
ভুক্তভোগী রাজিব চৌধুরী অভিযোগ করেন, তার দুটি চেইন, দুই জোড়া কানের দুল, দুটি আংটি এবং একটি রূপার নুপুর সহ প্রায় দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করতে পারছেন না। পরিবার বলেছে, চুরি সেরে যাওয়ার পর তাদের গ্রুপ ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে এখন ভয় কাজ করছে।
পুলিশী প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অবস্থা
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাপ্ত ফুটেজ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
“খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে জমা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবারের অনুরোধ ও আশঙ্কা
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে আসল দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার দাবিতে জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামটিতে চলাচলে তারা অনিশ্চয়তায় ভোগছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর হতে অনুরোধ করেছেন। কেউ মামলা করলে বা অভিযোগ জানালে পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগভিত্তিক হুমকিও দেয়া হয়েছে—এমন কথাও তারা প্রকাশ করেছেন।
- ভুক্তভোগীরা জোর দিয়ে বলেছেন দ্রুত ফলপ্রসূ তদন্ত দাবি রাখা হচ্ছে।
- স্থানীয়রা সিসিটিভি ও তথ্য-উপাত্ত পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
- পুলিশ বলেছে, প্রলোভন বা ষড়যন্ত্র আছে কি না তা তদন্তের পর জানা যাবে।
স্থানীয় প্রভাব ও উপস্হিত নিরাপত্তার চাহিদা
এ ধরনের রাতের ডাকাতি গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির আতঙ্ক কমাতে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সেঁচাবাজী দাবী করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামে রাতে টহল বাড়াতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন।
ঘটনাস্থল ও পরিবারের স্বজনরা অনুরোধ করেছেন—যদি কেউ চুরিকৃত জিনিস বা ঘটনাবলে সংশ্লিষ্ট কেউ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে তা পুলিশকে জানান। প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
এই প্রতিবেদন প্রণয়ন করা পর্যন্ত থানার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলীয় আরও কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়া হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি পাওয়া মাত্র পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
রিপোর্ট: ভোলা জেলা থেকে