নরসিংদীর পাঁচদোনা-ডাঙ্গা সড়কের পাইকারদী বাজারে গত ১২ আগস্ট মোবাইল কোর্টে দোকানপাট উচ্ছেদ করার ঘটনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও এলাকাবাসী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বী ও সার্ভেয়ার মাসুদ পারভেজ-এর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে তাদের গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও দোকানদারদের অবস্থান
ভুক্তভোগীরা বলেন, ডাঙ্গা‑পাঁচদোনা সড়কের পাশের পরিত্যক্ত একটি স্থানে কয়েকটি দোকানদার দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো ব্যবসা করে আসছিলেন। তারা দাবি করেন, কোনো পূর্বনোটিশ বা সমঝোতার সুযোগ না দিয়ে ১২ আগস্ট সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট এসে তাদের দোকানপাট ভেঙে দেয়। এই উচ্ছেদকালে কয়েকজন ব্যবসায়ী পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—পণ্যের বড় অংশ নষ্ট হয়েছে বা চলে গেছে এবং দোকান ব্যবহারের সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিতরা অভিযোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের থেকে মোশাররা বা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভ্রাম্যমান আদালত ব্যবহার করে উচ্ছেদ পরিচালনা করেছেন। তারা বলছেন, এমনভাবে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে যা আইনগত ও নীতিগত সুসংগত নয় এবং এতে ব্যবসায়ীদের আয়ের উৎসভাঙচুর হয়েছে।
দাবি ও প্রত্যাশা
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দোকানদাররা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্ব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। তারা ন্যায্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রহণে দ্রুততার সঙ্গে সহায়তা চাইছেন।
- ঘটনার তারিখ: ১২ আগস্ট — মোবাইল কোর্টে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।
- মানববন্ধন: ২ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ১১টা, পাইকারদী বাজারে অনুষ্ঠিত।
- অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বী ও সার্ভেয়ার মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতকে ভুল তথ্য প্রদান ও মোশাররা না দিয়ে উচ্ছেদ।
আইনগত ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত সড়কাঞ্চলে বসানো স্থাপনা উচ্ছেদের আগে আইনি নোটিশ ও প্রতিকার-বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়সংগত সুযোগ দেয়া না হলে তা মানবিক ও আইনি প্রশ্ন তোলে—এই মন্তব্য করেছেন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রশাসন বা অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদককে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি ও উচ্ছেদের নোটিশের বৈধতা সম্পর্কেও সরাসরি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে দাবি তুলেছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
পাইকারদী ও আশপাশের এলাকার অনেকের আয়ের ক্রমিক উৎসই ছোটখাটো দোকান-টেপের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে এসব বন্ধ হলে পরিবারের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানববন্ধনে উপস্থিতরা। ক্ষতিগ্রস্তদের বলা হয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ না পেলে আইনগত পথও খুঁজে দেখবেন।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| উচ্ছেদের তারিখ | ১২ আগস্ট |
| মানববন্ধনের তারিখ ও স্থান | ২ সেপ্টেম্বর, পাইকারদী বাজার |
| অভিযোগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | রেজা-ই-রাব্বী (নির্বাহী প্রকৌশলী), মাসুদ পারভেজ (সার্ভেয়ার) |
পরবর্তী ধাপ
দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্থরা—সরকারি তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ। এ খবর প্রকাশের সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তরা আইনগত পন্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে সংলাপ গড়ে তোলা, নোটিশ ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রমাণসমেত প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা অনেকে জোর দিয়ে বলেছেন—যা ভবিষ্যতে নাগরিকদের মৌলিক জীবিকা রক্ষায় সহায়ক হবে।